শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দুর্গাপুরে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ১২ জুলাই ২০২৬ ০২:১৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ১২ জুলাই ২০২৬ ০২:১৯ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় টানা ৫-৬ দিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অবিরাম বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাট-বাজার ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কাজের সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার আয়ের সংকটেও পড়েছে।


টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার অনেক স্থানে কাঁচা ও আধাপাকা সড়কে পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অফিসগামী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ভ্যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।


বৃষ্টির কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাননি। ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হারও কিছুটা কমেছে।


সিংগা গ্রামের ভ্যানচালক রুবেল আলী, টানা বৃষ্টির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন। ভাড়ার আশায় বৃষ্টির মধ্যেই ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেমন কোনো যাত্রী পাননি। পরে বাধ্য হয়ে একটি টিনের চালার নিচে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে কথা হয় তার সাথে। এসময় তিনি বলেন, ‘দুইটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যানগাড়ি কিনেছি। সেই ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু গত চার-পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে ঠিকমতো ভ্যান চালাতে পারছি না। আয় একেবারেই কমে গেছে। ফলে কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।’


একই গ্রামের দিনমজুর ওয়াজ নবী বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে-ঘাটে কোনো কাজ নেই। তিন-চার দিন ধরে বাড়িতে বসে আছি। কাজ না থাকায় কোনো আয়ও নেই। ফলে বাজার-সদাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা দিন এনে দিন খাই। কাজ না করলে পরিবারের খরচ চালানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।’


দুর্গাপুর দুরন্ত মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘কয়েকদিন থেকেই টিপটিপ বৃস্টি হচ্ছে। শনিবার পুরো দিনভর বৃস্টি দেখা দেয়। যার কারনে শনিবার মডেল টেস্ট পরিক্ষা থাকা স্বর্তেও বৃস্টির কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। রবিবার বৃস্টি উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। 


কয়েকজন চাকরিজীবী জানান, ‘টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃস্টি হওয়ায় অফিস যেতে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়াও রাস্তায় জলাবদ্ধতা, যানবাহনের সংকট ও দীর্ঘ যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপরও চাকরির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই অফিসে যেতে হচ্ছে তাদের।’ এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষকরাও উদ্বিগ্ন রয়েছেন। জমিতে পানি জমে থাকায় বিভিন্ন মৌসুমি সবজি গাছ নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।