সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ে ধস, ঘাটতি ২৮২ কোটি টাকা
সোনামসজিদ স্থল বন্দরে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত অর্থ বছরে সোনামসজিদ স্থল বন্দরে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ২৮২ কোটি ২০লাখ ৬৪ হাজার কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। লক্ষ্য মাত্র ছিল ১১০১ কোটি ৮৯লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৬৯লাখ ২৩হাজার ৮৫৮টাকা। যা শতকরা হিসাবে প্রায় সাড়ে ২৫% কম। গত অর্থ বছরের চেয়ে চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় ৮৯ কোটি ৭৬লাখ ৮০ হাজার টাকা কম হয়েছে। গত অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৯০১ কোটি ৪৬লাখ এক হাজার ১২৬টাকা।
শতকরা হিসাবে ৯.৮৭% কম।সোনামসজিদ স্থল বন্দরের কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে জুলাই/ ২০২৫মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৩কোটি ৯৮লাখ ৫৫হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ২৩% কমে ৫৬কোটি ৯৮লাখ ৭৬হাজার ৪০০টাকা। ঘাটতি ১৬ কেটি ৯৯লাখ ৭৯হাজার টাকা। আগস্ট /২০২৫ মাসে লক্ষামাত্রা ছিল ৭৬কোটি ১১লাখ ৩১ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া ২৯%কমে ৫৩ কোটি ৭৯লাখ এক হাজার ৭৩০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ২২ কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর /২০২৫মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭১কোটি ২১লাখ ১৪হাজার টাকা। আদায় হয়েছে প্রায় ১.৫% কমে ৭০ কোটি ১৪লাখ ৮৩হাজার ৫১০টাকা।
ঘাটতি রয়েছে ১০ কোটি ছয় লাখ ৩০হাজার টাকা।অক্টোবর/ ২০২৫মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৬ কোটি ২৫লাখ ৮০হাজার টাকা।আদায় হয়েছে ২১.২% কমে ৭৫ কোটি ৮৯লাখ ১৬হাজার ২৭০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ২০ কোটি ৩৬লাখ ৬৪ হাজার টাকা।নভেম্বর ২০২৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৩ কোটি ৩৬লাখ ৮০ হাজার টাকা । আদায় হয়েছে ২৮.০১%কমে ৭৪ কোটি ২৯ লাখ ৯হাজার ৯৪০ টাকা। ঘাটতি রয়েছে ২৯ কেটি ৭হাজার ৭০০টাকা। ডিসেম্বর/২০২৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৪ কোটি ৭৬লাখ ৪৫হাজার টাকা। ৩১.০১% কমে আদায় হয়েছে ৭৯ কোটি সাত লাখ ২৬হাজার ৮৯০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৩৫ কোটি ৬৯লাখ ১৮ হাজার টাকা।
জানুয়ারী/২০২৬ মাসে রাজস্বা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৯ কেটি ৭২লাখ তিন হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ২১.৫% কমে ৯৪ কোটি ৩৭লাখ ৬হাজার ৫৯০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ২৫ কোটি ৬৮লাখ ২৬ হাজার টাকা। ফেবৃুুয়ারি/২০২৬মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ কোটি ১৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।২২.৭% কমে আদায় হয়েছে ৭৩ কোটি ৫৩লাখ ১২ হাজার টাক। ঘাটতি রয়েছে২১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার টাকা। মার্চ/২০২৬মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৪ কোটি ৯১লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আদায় ৪৫% কমে ৬৩ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার ৯৬০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৫১ কোটি ৭২লাখ ২৫হাজার টাকা।এপ্রিল /২০২৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আদায় হয়েছে০.৫% কমে ৬৮লাখ ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৫৪০টাকা।ঘাটতিরয়েছে ৩হাজার৩৮৭টাকা।মে/২০২৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৭কোটি ৬২লাখ ৩৮হাজার টাকা। ৫৯.৪% কমে আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। জুন/২০২৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ০.৯%কমে আদায় হয়েছে ৭০কোটি ৭৮লাখ এক হাজার টাকা। ঘাটতি রয়েছে হাজার ৪৭১টাকা।
স্থল বন্দরের সি এন্ড এফএজেন্ট এসোসিয়েশনের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি মোবিনুল ইসলাম মোবিন মিয়া বলেন আমদানী কম হওয়া রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ।তাছাড়া সোনামসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে আমদানী খরচ অন্যান্য পোটের চেয়ে বেশী হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অন্যা পোর্ট দিয়ে পণ্য আমাদানী করছে।সি এন্ড এফ এজেন্টের সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন ৫আগাস্ট ২০২৪খ্রী: তারিখের পর থেকে আমরা প্রশাসনিক কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় পণ্য আমদানী কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।তাছাড়া সোনামসজিদ স্থল বন্দরে পূর্নাঙ্গ কাস্টমস অফিস না থাকায় কাগজপত্র নিয়ে আমাদের রাজশাহী ছুটাছুটি করতে হয়। পানামা পোর্র্টের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম বলেন আমদানী কৃত পণ্যের মধ্যে ৮০% হলো পাথর।
স্থল বন্দরে ফল আমদানী না হওয়া, ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনৈক্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের অভাবে পাথর ছাড়া অন্য পণ্য আমদানী না হওয়ায় দিনদিন রজস্ব কম আদায় হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, সোনামসজিদ স্থল বন্দরে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের চরম নিরাপত্তাহীনতা,ভাল কোন হোটেল বা আবাসিক না থাকা,এ বন্দরে ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের অভাব.আমদানী কর বৃদ্ধি. স্থানের সংকুলান না হওয়া. পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস অফিস না থাকা.ফল আমদানী করার ব্যবস্থা না করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যান্য স্থল বন্দরে সুযোগসুবিধা বেশী পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ওই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানী করায় সোনামসজিদ স্থল বন্দরে রাজস্ব আদায় দিন দিন কমছে।
তবে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা (সদ্য বদলীকৃত) হুমায়ুন কবির বলেন ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়া, ফল আমদানী না হওয়া, যানজটের কারণে গতঅর্থ বছরে সোনামসজিদ স্থল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।তবে খুব শীঘ্রই ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে ব্যবসায় চাঙ্গা করে ভবিষ্যতে রাজস্ব ঘাটনি না হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।