শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ, উপড়ে ফেলা হলো ১০১ আমগাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১২ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ, উপড়ে ফেলা হলো ১০১ আমগাছ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৈধভাবে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা, কৃষিকাজে বাধা, সেচের পানি বন্ধ, হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। সর্বশেষ তার আমবাগানে ঢুকে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম।


লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজার আরএস-২০ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগসহ কয়েকটি দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ১৯৮১ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মাধ্যমে তারা ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করেন। রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, বর্তমানে ওই জমি তাদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে। ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনেও তাদের জমির ভোগদখল ও নামজারির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে তাদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) এবং পাশের ব্যক্তিগত সেমি-ডিপকল থেকে তার জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “একই ডিপ থেকে অন্য জমিতে পানি দেওয়া হলেও আমাদের জমিতে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো বর্গাদারকেও আমাদের জমিতে চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কানাইকুন্ড-৩ নম্বর ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম পূর্বের বর্গাদার সামায়নের নিষেধের কারণে তাদের জমিতে পানি দিচ্ছেন না। তার দাবি, স্থানীয় আইনজীবী মো. জিয়াউল হক ও তার সহযোগীরা মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাকে গুম, হত্যা, বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ফসল নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গত ৩ জুলাই রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার আমবাগানে প্রবেশ করে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা হয় এবং কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় ৫ জুলাই গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেছেন রিয়াজুল ইসলাম। মামলায় মো. জিয়াউল হক, মো. সামায়নসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আদালতের রায়, জমির দলিল ও ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে বৈধ জমির দখল নিশ্চিত, সেচের পানি চালু, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামায়ন বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। জিয়া উকিলের সঙ্গে কথা বলেন। এ জমি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।” ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, “ডিপ স্কিম সভাপতি সামায়নসহ কমিটির সিদ্ধান্ত না থাকায় পানি দিতে পারছি না।” তবে পানি বণ্টনের কোনো লিখিত নীতিমালা বা আদেশ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগের মতো ডিপে পানি ওঠে না, তাই সবাইকে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে আইনজীবী জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।”