শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের বিকল্প নেই’

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেন্ডারভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনসুর রহমান। তিনি বলেন, নারীদের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজন নীতিনির্ধারণে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত ও জেন্ডারভিত্তিক তথ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। 


সোমবার (১৩ জুলাই) রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এসডিজি স্থানীয়করণে জেন্ডার ডিসঅ্যাগ্রিগেটেড ডাটা জেনারেশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিসংখ্যান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন জোরদার করা গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া হবে আরও তথ্যনির্ভর, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।


টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়করণে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব ও ব্যবহারিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। বাংলাদেশে এসডিজি স্থানীয়করণের গতি ত্বরান্বিত করার প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে এসডিজি-৫ (জেন্ডার সমতা) ও এসডিজি-১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) বাস্তবায়নে কার্যকর একটি ‘বাংলাদেশ মডেল’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, ইউএনওপিএসের পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজর শিরিন সুলতানা।


কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তিনি জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট এসডিজি সূচক, তথ্যের উৎস এবং স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীজন অংশ নেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার জোরদারের মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য ও জেন্ডার-সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।


বিশেষ করে সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার লক্ষ্যমাত্রা এবং এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬–সংশ্লিষ্ট সূচক বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যের গুণগত মান উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে নারী অংশগ্রহণ, সুশাসন, সেবায় প্রবেশাধিকার, জবাবদিহিতা ও জেন্ডার-সংবেদনশীল নীতিনির্ধারণে তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় এসডিজি ট্র্যাকার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯০ জন ‘এসডিজি ডাটা চ্যাম্পিয়ন’ তৈরির লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।