রাজশাহীতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ এবং চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মতবিনিময় সভা
রাজশাহী মহানগরীতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন বিষয়ে অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের সিটি হলরুমে এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন রাসিক প্রশাসক। এরপর রাসিকের ছয়টি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, রাজশাহীতে মিট প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ ও চিড়িয়খানার আধুনিকায়নে প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কাজ দুইটি বাস্তবায়ন সহ রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে একটি আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এ কেন্দ্রে পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হালাল পদ্ধতিতে জবাই, আধুনিক ল্যাবের মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা থাকবে। এতে নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। পশুর কোনো অংশই অপচয় না করে গবেষণার মাধ্যমে রপ্তানি, জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমি অবহিত করেছি। তিনি আধুনিক চিড়িয়াখানার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আম, রেশম, কৃষি, মৎস্য উৎপাদন, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটনের সম্ভাবনাসহ সব দিক থেকেই রাজশাহী একটি সমৃদ্ধ জেলা। আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রাজশাহীর আমের রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। রাজশাহীকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকার নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। রাজশাহীর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রতিটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে এবং জনগণের সহযোগিতা নিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমি কাজ করে যাচ্ছি।
রাসিক প্রশাসক বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন ও পশুপাখি আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সে প্রেক্ষিতে আজকে পরিদর্শনে এসেছেন। আজকের দিনে আমাদের জন্য আনন্দের। সকলের সহযোগিতায় রাজশাহীকে সুন্দর, স্বাস্থকর ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান, রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান আহমেদ, রাজশাহী মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আতাহার রহমান প্রমুখ।
রাসিকের সচিব মো. সোহেল রানার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যবৃন্দ সহ সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভার পূর্বে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজশাহী মহানগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের তালাইমারি এলাকায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। এ সময় রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সকাল ৮টায় শাহ মখদুম বিমানবন্দরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান রাসিক প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি বলেন, এক সময় রাজশাহীর মানুষের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এর ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে এবং অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। এটিকে পুনরুদ্ধার করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়ন করে সাফারি পার্কের আওতায় এনে নতুনভাবে গড়ে তুলতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে পরিদর্শনে এসেছি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সঙ্গে আছেন। খুব শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা কী এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আঞ্চলিক কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার পরিদর্শন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী হাটে আঞ্চলিক কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগার ও আঞ্চলিক মুরগি খামার পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীকে গবেষণাগার অভ্যন্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখান প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক ড. মো. গোলাম মোস্তফা।
পবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণ
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসানসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।