দুর্গাপুরে সড়কের কাজ ফেলে রেখেই ঠিকাদার লাপাত্তা, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার সিংগা-বহরমপুর হয়ে মাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকার চৌবাড়িয়া হয়ে হোজা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে রেখেই ঠিকাদার লাপাত্তার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
জানা যায়, উপজেলার সিংগাহাট ডিসি হতে বহরমপুর, হোজা, পানানগর হয়ে পুঠিয়া উপজেলা বিড়ালদহ মাজার পর্যন্ত কাজ পায় জে,এম,এম,আর,এন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮১ টাকা।
ওই প্রতিষ্ঠান হতে সিংগা বাহরমপুর হয়ে হোজা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটর পাকা সড়ক সংস্কারের জন্য সাব কনট্রাক নেয় অপর ঠিকাদার মুকুল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ইট বিছিয়ে রাখা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজের আর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রায় তিন মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা ও সাইকেল চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা জমে রাস্তা আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, কোথাও কোথাও পানি জমে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এ পথে চলাচলকৃত হাজাও মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
বহরমপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফসার আলী বলেন, ‘সংস্কার কাজ শুরুর আগে অন্তত কোনো রকমে চলাচল করা যেত। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে ও দুই পাশে ইট বিছিয়ে কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার বর্তমান অবস্থায় ভ্যান চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে, যাত্রীও কমে গেছে। তার ওপর এ বর্ষাতে কাদা আর পানিতে রাস্তা আরও খারাপ হয়ে গেছে।’
চৌবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়েই আমাদের বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিন সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে আমরা ভোগান্তিতে ছিলাম। নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় ভেবেছিলাম এবার হয়তো স্বস্তি পাব। কিন্তু কাজ শুরুর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। কী কারণে কাজ বন্ধ হয়েছে তা আমরা জানি না। প্রায় ৩ মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে কাদা আর জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
বহরমপুর গ্রামের বাসিন্দা তানজিল খান বলেন, ‘মনে হয় আমাদের এই সড়কটির যেন কোনো অভিভাবক নেই। বছরের পর বছর ধরে শুনে আসছি রাস্তার সংস্কার হবে। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন কাজ করার পরই ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছেন। এরপর থেকে আর কোনো কাজের অগ্রগতি নেই। ফলে আমাদের যে দুর্ভোগ ছিল, তা আগের মতোই রয়ে গেছে। বরং অসমাপ্ত কাজের কারণে এখন চলাচলে আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
বহরমপুর, চৌবাড়িয়া ও হোজা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এছাড়াও এ সড়ক ব্যবহার করেন পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের শতশত মানুষ। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না হলে এ বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এই সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
এবিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুল হক বলেন, ‘আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এমনকি আমাদের পৌর প্রশাসক স্যারো তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।’
এদিকে সড়ক সংস্কার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল হক বলেন, ‘ ঠিকাদার সড়ক নির্মাণকাজ অসম্পন্ন রেখেই চলে গেছে। এনিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলার মিটিংএ পর্যালোচনা হয়েছে। বর্তমান ঠিকাদারের কার্যাদেশের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। তারা কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে।