‘জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়’
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেছেন, “সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হতে পারে। সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়। জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়।”
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাবি লেখক ফোরামের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, “যাদের আমরা জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্ম হিসেবে দেখেছি, তাদের অনেককে একসময় রাজনীতি-অনাগ্রহী বা শুধু মোবাইলনির্ভর প্রজন্ম বলে মনে করা হতো। কিন্তু তারাই এমন একটি রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো করতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব গণআন্দোলন গড়ে তুলে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাদের এই ভূমিকা আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্যও শিক্ষণীয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই মহাকাব্যিক গণ-অভ্যুত্থানের পরও ফ্যাসিবাদের পক্ষে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু দেড় বছর পরও জুলাই আন্দোলনের চেতনা মানুষের মধ্যে জীবন্ত রয়েছে।”
মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, আত্মসমালোচনা এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে নতুন বাস্তবতায় চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন এনে দেশমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশ পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ যেন বিস্মৃত না হয়, সেবিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। সবাইকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান আখন্দ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।