শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

আমের ঢলন প্রথা বাতিল, প্রসেসিং সেন্টারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
আমের ঢলন প্রথা বাতিল, প্রসেসিং সেন্টারের দাবিতে মানববন্ধন

আমের ‘ঢলন’ প্রথা বাতিল, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং রাজশাহীতে আধুনিক আম প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আমের ভ্যালুচেইন প্রমোশনাল বডির নেতারা ও আমচাষিরা। এ দাবিতে বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।


মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আমের হাট বানেশ্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলার আমচাষি, ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল আম। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় লক্ষণভোগ, ফজলি ও অন্যান্য জাতের আম ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।


বক্তারা আরও বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে দেশের সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হলেও এ অঞ্চলে আধুনিক প্রসেসিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) প্ল্যান্ট ও কোয়ারেন্টিন সুবিধা নেই। ফলে আম থেকে জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, শুকনো আমসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানির সুযোগ সীমিত হয়ে রয়েছে।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী মণ্ডল বলেন, বর্তমানে ৪০ কেজি আম বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকদের ৫২ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত আম দিতে হচ্ছে। ‘ঢলন’ নামে পরিচিত এই অতিরিক্ত ওজনের প্রথা কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী আম কেনাবেচা নিশ্চিত করতে এই প্রথা বাতিলের দাবি জানান তিনি।


সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পলাশ বলেন, আমচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। রাজশাহীতে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হলে আম থেকে জুস, জ্যাম, জেলি, আচারসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।


সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, আম শুধু একটি ফল নয়, উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক আমচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ঢলন প্রথা অব্যাহত থাকলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আমচাষ হুমকির মুখে পড়বে।


তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধার আওতায় এনে এখান থেকে সরাসরি আম রপ্তানির ব্যবস্থা করা হলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে।