শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করাসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ

রাবি প্রতিবেদক ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করাসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এসময় বিক্ষোভকারীরা দুই দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা এবং বান্দরবান, চট্টগ্রামসহ দেশের সব বন্যাকবলিত এলাকায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।

এসময় তারা ‘পানি নিষ্কাশন পথ রুখবে যারা, গণশত্রু ও গণবিরোধী তারা’, ‘জনগণ ভাসে বন্যার জলে, প্রশাসন ঘুমায় এসির তলে’, ‘মৃত্যুর সংখ্যা লুকিও না’, ‘ত্রাণ চাই না, নাটক বন্ধ করো পিও, স্থায়ী সংস্কার চাই’, ‘বাঁধ আটকে ব্যবসা কেন, রাষ্ট্র জবাব চাই’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় এক বছর পূর্ণ হলেও জনগণ এখনও অধিকারবঞ্চিত। বন্যাকবলিত মানুষ ত্রাণ ও নিরাপত্তা পাওয়ার পরিবর্তে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জনগণের বন্ধু হওয়ার বদলে ক্ষমতাসীনরা জনগণের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন আচরণ করছে।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নদী যথাযথভাবে ড্রেজিং না করা এবং শহরাঞ্চলে ত্রুটিপূর্ণ পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই এ দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে।

এ সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অবমাননাকর। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খেলার মাঠের অভাবের কারণেই শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মাথাপিছু মাত্র ১৭ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অপ্রতুল। জনগণের কর ও ভ্যাটের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে সে প্রশ্ন তুলে তিনি অনতিবিলম্বে বন্যাকবলিত ১৭টি জেলায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখারও জোর দাবি জানান তিনি।

ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, বন্যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দুর্ভোগে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীর চিত্র দেখা গেলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে সরকার বা শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। আমরা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দ্রুত পরীক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলব।

তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং রাজশাহী থেকে তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আল আশরাফ রাফি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন শিকদার ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বক্তব্য দেন।