১৬ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল শুরু
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে প্রায় ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাত থেকে ঢাকাসহ দুরপাল্লার সকল বাস ছেড়ে যাবে। তবে আন্তঃজেলা বাস বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর থেকে চলবে।
এর আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাস বন্ধ থাকে। এরপর রাতে আবার বাস চলে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাস বন্ধ থাকে। রাত ১০টা থেকে বাস চলাচল শুরু করে।
মঙ্গলবার (১৪ জুল্ইা) বিকেলে পরিস্থিতি নিরসনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে চলমান সংকট নিরসন এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হলেও সেখানেও কমিটি ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর বৈঠকে বাস চালু করার নির্দেশ দেওয়া হলেও কেউ তা মানেননি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার মোফাক্কারুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বসেছিলাম। জেলা প্রশাসকের স্যারের নির্দেশে নির্বাচন কমিটি করে দেওয়া হবে। এই কমিটি থেকে বাস মালিক প্রতিনিধি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন করা হবে। এছাড়াও একজন কর্মকর্তা দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালনা করার জন্য কমিটি করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মোমিন গ্রুপের লোকজন হিসাব না কমিটিতে যাবেন না বলে জানান। তবে তাদের আশ্বস্ত করা হয় নতুন যে কমিটি করা হবে সে কমিটি হিসাব দেবে। এখানে প্রশাসন থেকে তিনজন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখির পক্ষ থেকে চারজন ও সাধারণ সম্পাদক মোমিন আলীর পক্ষ থেকে চারজন থাকবে। এদের সঙ্গে নিয়ে রাত ১০টায় আবার বৈঠক করা হবে। তারপর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কমিটি ঘোষণা করবেন।
দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার অবসান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। শিরোইল বাস টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে ফিরে যান। আবার জরুরি প্রয়োজনের কারণে কেউ কেউ নাটোর বা অন্য জেলা হয়ে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সময় ও অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা-দুই-ই গুনতে হয়েছে যাত্রীদের।
এর আগে সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন শ্রমিকদের একাংশ। এ নিয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু এবং বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হলে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় একদিনের এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। তবে মঙ্গলবার রাত বাস চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে রাজশাহীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।