বগুড়ায় অতিবৃষ্টিতে ৪শ’ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত
প্রকৃতিতে চলছে বর্ষাকাল। গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন থৈ থৈ করছে পানি। কোথাও হাঁটু পানি। নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমি সহ বাড়িঘরেও ঢুকে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এই বর্ষায় চলতি জুলাই মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ১০ দিনে বগুড়ায় বৃষ্টির পরিমাণ ৩০৯ মিলিমিটার। গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি। আবহাওয়া অফিসের সূত্র বলছে, গত বছরের জুলাই মাসে জেলায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩৯৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার। এই অতিবৃষ্টিতে বগুড়ার মাঠে থাকা বিভিন্ন ফসলের ৪শ’ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৬১ জন কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে ১১ হাজার ১৬০ জমিতে আউশ, ৯ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে পাট, ৬ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা, ৫৯২ হেক্টর জমিতে মরিচ এবং ৬৬০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা রয়েছে। মোট ৩৩ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে থাকা এসব ফসলের মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে ৪শ’ হেক্টর জমির ফসল। এরমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলা। এই উপজেলার ৩ হাজার ২শ’ কৃষকের ১৬৮ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পাশাপাশি বন্যার পানিতে অর্থকরী ফসল পাট, বীজতলা ও সবজি তলিয়ে যাওযায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।
চলতি বছরের বন্যায় ওই উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩৮ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, রোপা আমনের বীজতলা, পাট, কলা, পেঁপে ও শাক-সবজি জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে সংশ্লিস্ট কৃষি অফিস জানিয়েছে।
এছাড়াও শাজাহানপুরের ৯১ কৃষকের ১৪ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ার ৪৭০ কৃষকের ৬০ হেক্টর, কাহালুর ৪৯১ কৃষকের ৭৫ হেক্টর এবং আদমদিঘীর ৩৮৫ কৃষকের ৪৫ হেক্টর জমির ফলস নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে ৩১ হেক্টর জমির আউশ, ১১৫ হেক্টর জমির পাট, ৯৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন সবজি, ১২৩ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা, ২২ হেক্টর জমির মরচিসহ অন্যান্য ফসলের ১৩ হেক্টর জমি বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৪২ জন কৃষকের আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া বগুড়া সদর, শেরপুর, ধুনট, গাবতলী, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় নিম্নাঞ্চলের কোন ফসলের মাঠ এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মাহফুজ আলম বলেন, গত ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪শ’ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বৃষ্টির পরিমাণ কমলে আক্রান্ত জমির অনেক ফসল রক্ষা পাবে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা বাড়তে পারে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের সহায়তার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা না থাকলেও সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এসব কৃষকদের অগ্রাধিকার প্রদান হবে।