বন্যা: মৎস্য খাতেই ক্ষতি ৩৬৯ কোটি টাকা
দেশজুড়ে অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের অধিকাংশ জেলায় মৎস্য, প্রাণি ও কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, চূড়ান্ত হিসাবে যা আরও বাড়তে পারে। কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি।
মৎস্য অধিদপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে শুধু এ খাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
যার মধ্যে খামার, পুকুর, দীঘি মিলিয়ে অবকাঠামোগত ক্ষতি ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, মাছ, মাছের পোনা, চিংড়ি ও খামারের অবকাঠামো ভেসে গিয়ে বিপুল অঙ্কের এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সারাদেশে ৪২টি উপজেলার ৬০২টি ইউনিয়নের ৩০ হাজার ৩৬টি পুকুর, দীঘি, ঘের, খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বন্যায় এ বিভাগে ৩১৪টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৬২৩টি পুকুর বা দীঘি এবং ৭৮৪টি চিংড়ি ঘের সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।
ভেসে যাওয়া মাছ, চিংড়ি ও পোনা, মৎস্য খাতের অবকাঠামো, জাল ও নৌকার ক্ষতিসহ সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৭৪ কোটি ২৯ লাখ ৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণিসম্পদ খাতে শুধু চট্টগ্রাম বিভাগেই সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানি ও চারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির তীব্র খাদ্যসংকট, বাসস্থান ধ্বংস এবং নানাবিধ রোগবালাইয়ের কারণে খামারিরা চরম আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।
গেল ৫ জুলাই রাত থেকে টানা কয়েক দিনের অতি ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ৪৩টি জেলার ফসলি জমি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির এ প্রতিবেদন তৈরি করলেও বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলাগুলোর মোট ৩৬টি উপজেলা এবং ১৫৬টি ইউনিয়ন সরাসরি বন্যার কবলে পড়েছে।
এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলা বন্যার কবলে পড়েছে।
দুর্যোগোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে নিবিড় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ভাষ্য অধিদপ্তরের।
এ বিষয়ে মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের যেই যেই জায়গায় বন্যা হয়েছে, আমাদের অফিসার যারা রয়েছে মাঠ পর্যায়ে, তাদেরকে আমরা পুরো তালিকা করতে বলেছি, কোথায় কী ক্ষতি হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পরবর্তীতে আমরা আমাদের পদক্ষেপ নেব।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ