চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পরীক্ষার্থীদের
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে প্রায় চার ঘণ্টা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। টানা দ্বিতীয় দিনের এই কর্মসূচিতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এছাড়াও এইচএসসি ও সমমানের পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত এবং বন্যা ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
অবরোধের একপর্যায়ে তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুই ঘণ্টাব্যাপী তারা সড়ক অবরোধ শেষে তারা সেখান থেকে সরে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থীরা দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রায় ১১ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এসব শিক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা দেশের পরবর্তী এইচএসসি পরীক্ষাগুলোও পরিস্থিতি বিবেচনায় পেছানোর দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি- চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ করতে হবে এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে অবরোধের কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যানবাহন এবং ব্যক্তিগত গাড়িসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান শাহরিয়ার বলেন, মঙ্গলবার সরকারের কাছে আমাদের তিন দফা দাবি ছিল। কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই আমরা এখন এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এ কে এম শাহরিয়ার সিয়াম বললেন, জাতীয় সংসদের সামনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে আমরা জেনেছি। এরপরও সরকার আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই আজ আমাদের এক দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাচ্ছি।
পদ্মা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বললেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন অত্যন্ত কঠিন ও অযৌক্তিক হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রশ্নপত্রে বিভিন্ন অসংগতি রয়েছে। তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি।
সড়কে দায়িত্ব পালন করা মতিহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ফেরদৌস বলেন, বেলা ২টার পর থেকেই তালাইমারী মোড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। তাঁদের কর্মসূচির কারণে এই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার আমার কাছে এসে তাদের দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। আমরা তাদেরকে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছি। রাজশাহীর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমরা বলেছি, এটি রাজশাহী বোর্ডের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে সবাই জানতে পারবে।