শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পদ্মার পানি বাড়ছে অব্যাহতভাবে, সতর্ক অবস্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন
পদ্মার পানি বাড়ছে অব্যাহতভাবে, সতর্ক অবস্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড

উজানের ঢল ও নদী অববাহিকায় পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির প্রভাবে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গত ১৪ দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা বেড়েছে ২ দশমিক ০৪ মিটার। যদিও পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৭৮ মিটার। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮২ মিটারে। অর্থাৎ মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে পানির উচ্চতা বেড়েছে ২ দশমিক ০৪ মিটার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের বৃষ্টিপাত ও নদী অববাহিকায় পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পাউবো সূত্র জানায়, জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। গত ৫ জুলাই সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৫৩ মিটার।


৭ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তা কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৩৪ মিটারে নেমে এলেও ১০ জুলাই থেকে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়। ১০ জুলাই পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৪১ মিটার, ১১ জুলাই ১০ দশমিক ৫৯ মিটার, ১২ জুলাই ১০ দশমিক ৯০ মিটার, ১৩ জুলাই ১১ দশমিক ০৮ মিটার এবং সর্বশেষ বুধবার দুপুরে তা ১১ দশমিক ৮২ মিটারে পৌঁছেছে। সরেজমিনে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঝ নদীর ছোট ছোট চরগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। কয়েকটি চর আংশিকভাবে প্লাবিত হয়েছে।


নদীর স্রোতের সঙ্গে প্রচুর কচুরিপানা ভেসে আসছে, যা স্থানীয়দের মতে উজানের ঢলের ইঙ্গিত। পদ্মার পাটুলিঘাট এলাকার নৌকার মাঝি জিয়াউর রহমান বলেন, আষাঢ়ের শেষ ভাগ থেকে শ্রাবণ মাসজুড়ে পদ্মার পানি আরও বাড়ার প্রবণতা থাকে। সেখানে কথা হয় চর খিদিরপুরের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন এর সাথে।


তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই পানি বাড়ছে। ছোট ছোট চর প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবিষয়ে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। বর্তমানে মাঝনদীর ছোট চরগুলো পানির নিচে চলে যাচ্ছে। তবে মূল বসতি এখনো নিরাপদ রয়েছে। তাই আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। 


রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হুরায়রা বলেন, বর্তমানে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী পানি বিপৎসীমার প্রায় ৬ দশমিক ৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এখনই বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাউবোর পানি গেজ রিডার এনামুল হক জানান, প্রতিদিন পানির উচ্চতা পরিমাপ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাঁধটি বর্তমানে নিরাপদ ও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। তবে বাঁধের ওপর ও আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তাই পর্যায়ক্রমে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরীর কেশবপুর এলাকার শ্রীরামপুর শহর রক্ষা বাঁধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে।


তিনি আরও বলেন, শহর রক্ষা বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও দুর্বলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে পদ্মা নদীর পানি আরও কিছুদিন বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। নদীর গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।