জুলাইয়ের শহিদদের ত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে : বিভাগীয় কমিশনার
“জুলাইয়ের শহিদদের ত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শহিদদের সাহস, দেশপ্রেম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে ন্যায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে।”- এসব কথা বলেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগ কেবল একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক গৌরবময় মাইলফলক। তাঁদের আত্মদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য প্রেরণা। তাঁদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করার নয়; তবে তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সেই ত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। শহিদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী রায়হানের বাবা মুসলিম উদ্দীনের স্মৃতিচারণে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার একটাই ছেলে ছিল। সে আমাকে খুব ভালোবাসত। বলত, চাকরি পেলেই আমাকে হজে পাঠাবে। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ছেলেকে হারানোর কষ্ট কোনো দিনই শেষ হবে না।” তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শহীদ মিনারুলের স্ত্রী নূরে ইসলাম খাতুন বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি শহিদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম, আল মামুন ও নাহিদুল ইসলাম সাজু। তাঁরা বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী, রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম এবং রাজশাহীর গণঅভ্যুত্থান পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা আলোচনা সভায় অংশ নেন। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।