স্থানীয় নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হবে ২১ জুলাই
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়া আগামী ২১ জুলাই চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খসড়ার ওপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় এটি অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও কয়েকটি ছোট সংশোধনী যুক্ত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করে মতামত আহ্বান করা হয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ৩০ জুনের মধ্যে লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছিল।
ইসির আহ্বানে দলীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে মোট ১১টি মতামত জমা পড়ে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে কয়েকটি সীমিত সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই কমিশন সভায় খসড়াগুলো চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে কেবল ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফলে খসড়া আচরণবিধির মূল কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
ইসি জানিয়েছে, আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল বা অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলাদা কোনো সংলাপের পরিকল্পনা নেই।
প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার এজেন্টকে লিখিত আদেশে তাৎক্ষণিকভাবে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারের সময়সীমা কমানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারে বিধিনিষেধের প্রস্তাবও রয়েছে।
এ ছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপি ও ঋণখেলাপির জামিনদারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়ায় প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের ১ শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহের শর্ত তুলে দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
ইসি আগে জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধাপ শুরু হতে পারে। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি