জুলাই শহীদ দিবসের সভায় জামায়াতের এমপি ও বিএনপি নেতার তুমুল বাগবিতণ্ডা
পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারি আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় জামায়াতের এমপি জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করায় এমপির সঙ্গে বিএনপির এক নেতার তুমুল বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়া বিবাদের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনির মধ্যে এই বাগ্বিতণ্ডা ও ঝগড়া বাধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব ও ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুজ্জামান আসাদ তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে দুজনকে থামানোর চেষ্টা করেন।
জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করেন। সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি এমপির বক্তব্যের মধ্যেই আপত্তি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা শুরু হয়। সভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনও, ওসি, এসি ল্যান্ডসহ অনেকেই তাদের দুজনের ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে। তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন জরুরি।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গণভোট ও জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘জুলাই চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু বিএনপি এখনো গণভোটের বিষয়ে শপথ গ্রহণ করেনি। বিএনপির এ অবস্থান জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’Ñএ বক্তব্যের সময় ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি দাঁড়িয়ে জোর আপত্তি জানান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর এমপিকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, ‘সরকারি দলের বিষয়ে সমালোচনা করার আপনি কে? আপনি বিএনপির সমালোচনা করতে পারেন না।’ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এমপির করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এমপির বক্তব্য বন্ধ করার দাবি তোলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সভাকক্ষে উপস্থিত উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে ঝগড়া থামাতে হস্তক্ষেপ করেন। পরে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে পরিবেশ শান্ত হয়। এক পর্যায়ে এমপি আবু তালেব মন্ডল তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে এমপি ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি হাত ও বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করেন।
ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার, ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, পৌর আমির মওলানা গোলাম আজম খান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, সভায় এমপি মহোদয়ের বক্তব্য নিয়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি আপত্তি করলে উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পরে তারা আমাদের অনুরোধে শান্ত হলে সভার কাজ শুরু ও শেষ হয়। বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও এমপি হয়ে বিএনপি সম্পর্কে তীর্যক সমালোচনা করায় আমি এমপি মহোদয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছি। পরে আমরা উভয়ে নিজেদের ভূল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে সভা শেষ করি।
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।