সড়কে উঠেছে ড্রেনের পানি, দুর্ভোগে পথচারিরা
রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকার একটি সড়কে ড্রেনের পানি সড়কে চলে এসেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় ড্রেনের পানি সড়কে চলে আসছে। বর্ষাকাল তো বটেই, এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও ড্রেনের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে সড়কে জমে থাকছে।
সরেজমিনে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীহাটা ঘোষপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় এই শোচনীয় চিত্র। ড্রেনগুলোর মুখে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গৃহস্থালির ব্যবহৃত বর্জ্যমিশ্রিত কালো পানি ড্রেন উপচে সরাসরি পিচঢালা রাস্তায় এসে পড়ছে। ইজিবাইক, রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন নোংরা পানি ছিটিয়ে চলাচল করছে, যা পথচারীদের জন্য এক অবর্ণনীয় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়েই নোংরা ও জীবাণুযুক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বয়োবৃদ্ধদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজীহাটা ঘোষপাড়ার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে সারাবছরই ড্রেনের পানি জমে থাকে। ড্রেনগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না, আর রাস্তাগুলোর অবস্থাও ভাঙাচোরা। আমরা নিয়মিত ট্যাক্স দিয়েও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে। ড্রেনে সারাবছর পানি জমে থাকার কারণে সেখানে মশার বংশবিস্তার আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জমে থাকা এই নোংরা পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে, যা পুরো এলাকায় ডেঙ্গুসহ নানা মশাবাহিত ও চর্মরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। করোনা বা অন্যান্য মহামারীর ধাক্কা সামলে ওঠার পর এখন এই নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে।
কাজিহাটার বাসিন্দা গৃহিণী রোজিনা বেগম বলেন, প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই এই নোংরা পানি পার হতে হয়। ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। দুর্গন্ধে জানালা খুলে রাখাও যায় না। অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
স্কুলশিক্ষক শাহীন আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকেই এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলে আসে। বর্ষাকালে তাদের পোশাক-জুতা নোংরা হয়ে যায়। পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিন এই রাস্তার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নোংরা পানি, কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। একটি আধুনিক শহরে বছরের পর বছর এমন সমস্যা থাকা সত্যিই দুঃখজনক।
৮ নম্বর ওয়ার্ড সচিব আবুল কালাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাই তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।