নিত্যপণ্যের খুচরা বাজারে অস্থিরতা
চাল কিংবা আটার মতো প্রধান খাদ্যসামগ্রী শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই পণ্যগুলোর দাম বাড়লেও সহজে তা কমছে না। বাজারে পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও খুচরা পর্যায়ে মূল্য অনিয়ন্ত্রিত হয়ে আছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মসলার বাজারে দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। পেঁয়াজের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। দেশি রসুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানিকৃত রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, আমদানিকৃত আদার দাম প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। গুঁড়া হলুদের কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং আমদানিকৃত শুকনা মরিচ ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। দেশি শুকনা মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা আর নিত্যদিনের রান্নায় অপরিহার্য কাঁচা মরিচের দাম খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
সবজির বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খুব একটা লক্ষণ নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি জাতের বেগুনের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচাকলা এক হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা পেপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়শ ৫০, কাঁকরোল ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, চিচিংগা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাহেববাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী সোলাইমান আলী বলেন, ক্রেতারা ভাবেন দাম আমরা বাড়াচ্ছি, কিন্তু আড়ত বা পাইকারি বাজারে দামের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আজকে যে জিনিস এক দামে কিনি, পরেরদিন চালানেই সেটার দাম পাল্টে যায়। বেশি দামে মাল কিনতে হলে খুচরা বাজারে আমাদেরও দাম বদলাতে হয়; এছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকে না।
আমিষের বাজারে মাছ ও মাংসের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া মৃগেল মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, সিলভার কার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাঙ্গাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি।
সাহেবাজারের মাছ বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে মাছের দাম ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে যায়। আড়তদারেরা যখন যেমন দাম ধরে, আমাদেরও বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারে সেই অনুযায়ী দর বাড়াতে বা কমাতে হয়। ক্রেতারা এসে আমাদের সাথে রাগারাগি করেন, কিন্তু মোকামের অস্থিরতার কারণে আমরা নিজেরাও শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছি না।
মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা । ডিমের বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা এবং ফার্মের সাদা ডিম ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং লাল ডিম ৪২ থেকে ৪৪ টাকা প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে।
আফজাল হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, আগের সপ্তাহে সকালে বাজারে এসে যে দামে সবজি দেখে গেলাম, এবার এসে শুনি দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়েছে। বাজারে দামের কোনো কিছু স্থির নেই; একবার আসলে এক রকম শুনি, আরেকবার আসলে আরেক রকম। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষেরা এখন বাজারে এসে থলে অর্ধেক খালি রেখেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছি।
গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে এসে যে দামে বাজার করে যেতাম, এখন সেইদামে ওইসকল জিনিস কিনে পারি না। বেশি টাকা লাগে , এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা এখন পুষ্টিকর খাবার কেনার কথা চিন্তাই করতে পারে না।