শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক বাংলা!

সোনার দেশ ডেস্ক ২০ জুলাই ২০২৬ ০২:২৯ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২০ জুলাই ২০২৬ ০২:২৯ অপরাহ্ন
পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক বাংলা!
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। - ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাষানীতির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে সরকারি কাজকর্মে বাধ্যতামূলক হবে বাংলা ভাষা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতি কার্যকর হবে। তার আগে অন্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে নেওয়া হবে।

সোমবার বিধানসভায় বক্তৃতার সময়ে রাজ্য সরকারের নতুন ভাষানীতি প্রণয়নের কথা জানান শুভেন্দু। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সব সরকারি চিঠিপত্র, নির্দেশিকা, বিজ্ঞপ্তি বাংলা ভাষাতেই লেখা হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে বা অন্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘বিদেশি ভাষার’ পরিবর্তে বাংলার পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে হিন্দি ভাষা।

কেন্দ্র দু’বছর আগে, ২০২৪ সালে বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেয়। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র দাবি করেছে, তারা আঞ্চলিক ভাষাগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধিতে আগ্রহী। তবে অতীতে তৃণমূল সরকার বার বার বিজেপি-কে ‘বাংলা-বিরোধী’ বলে খোঁচা দিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বাংলাকেন্দ্রিক এই ভাষানীতি প্রণয়ন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বস্তুত, রাজ্যে সরকারি কাজকর্মের ক্ষেত্রে বাংলাকেন্দ্রিক একটি ভাষানীতি প্রণয়নের চেষ্টা আগেও হয়েছিল। অতীতে বাম জমানায় বাংলা ভাষাকে প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছিল সরকার। যুতসই প্রতিশব্দ খুঁজে বার করার কাজও শুরু হয়েছিল। তবে সেই ব্যবস্থা বেশি দিন চলেনি। তৃণমূল সরকারও একসময়ে বলেছিল, বাংলায় চাকরি পেতে গেলে বাংলা ভাষা জানতেই হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ স্তরে বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষায় চিঠি লিখেছেন। তবে সার্বিক ভাবে কোনও ভাষানীতি কার্যকর হয়নি। এ বার রাজ্য সরকার বাংলাকেন্দ্রিক ভাষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগী হল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সোমবার বলেন, “আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরে আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করলাম। ভারত সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে আমরা বাংলা ভাষায় চিঠিপত্র লিখব, উত্তর দেব। তার সঙ্গে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা বাংলা ভাষার সঙ্গে হিন্দি ভাষাতেও উত্তর বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করব।”

রোববার কলকাতায় জাতীয় গ্রন্থাগারে ‘শব্দ সংগ্রহশালা’র উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উদ্বোধনমঞ্চ থেকে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহার বৃদ্ধির বার্তা দেন তিনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে একটি চিঠিও দেন শাহ। ওই চিঠি প্রসঙ্গে শাহ বলেছিলেন, “আমার মনের একটা কথা আমি শুভেন্দুকে চিঠিতে লিখেছি। আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু আমার সেই স্বপ্ন নিশ্চয়ই পূরণ করবেন।” মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, ওই চিঠি তিনি সোমবার বিধানসভায় পড়ে শোনাবেন।

সেই মতো সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় শাহের লেখা ওই চিঠি পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, প্রশাসন, শিক্ষা, জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলির যথাযথ স্থান পাওয়া উচিত। শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের নিজস্ব ভাষায় চললে তবেই তা কার্যকর এবং জনমুখী হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ অবস্থায় শুভেন্দুকে তাঁর প্রস্তাব, পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার ব্যাপক প্রয়োগের বিষয়ে উৎসাহ দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন শাহ। সরকারি ফাইলপত্র, টীকা (নোটিং), চিঠি বা কোনও সরকারি নির্দেশিকায় বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন শাহ। এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও বাংলাকেই প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র বা অন্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা এবং হিন্দি ভাষার ব্যবহারের কথা চিঠিতে বলেছেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাবগুলিকে মান্যতা দিয়েই এ বার নতুন ভাষানীতি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন