শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুলাই ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ জুলাই ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ন
সেই একই জায়গা দখল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, উত্তপ্ত দিল্লি
মঙ্গলবার সকালে আবার যন্তর মন্তরে ফিরলো আন্দোলনকারীরা। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের জাতীয় রাজধানীতে চরম নাটকীয়তার পর দিনও ব্যঙ্গধর্মী প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের পর যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সিজেপির বিক্ষোভের মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে নেয়। তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে আবার আন্দোলনকারীরা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদস্থল দখল করে নেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

সিজেপির আহ্বানে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীরা আসতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাটিতে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাজারো শিক্ষার্থী সড়কে নেমে এলে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পার্লামেন্টের একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে ১০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের ওই বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আন্দোলনকারীরা ‘উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক’ আচরণ প্রদর্শন করেছে। বারবার সতর্কবার্তা ও আইনি নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও তারা আদেশ লঙ্ঘন করে অবস্থান অব্যাহত রাখে।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছে যে ‘সংসদ চলো’ অভিযানের সময় দিল্লি পুলিশ তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

এমন বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও স্লোগানবাজির মধ্যেই সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে। সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তার বাসভবনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি তাদের দাবি শোনেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে সিজেপি প্রতিনিধি দল তিনটি প্রধান দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো- সোনাম ওয়াংচুককে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তার চলাচলে কোনও বিধিনিষেধ রাখা যাবে না, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং এনইইটি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা প্রতিটি এনইইটি পরীক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান যে সিজেপি নেতারা তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সিজেপির পক্ষ থেকেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। আলোচনা শেষে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে উপযুক্ত পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মেলেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থামবে না।

এদিকে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ঘোষণা দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুব নেতাদের পার্লামেন্টে এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না দেওয়া হবে কিংবা এমপিরা তাকে দেখতে দিল্লির হাসপাতালে না আসবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন