কালিগঞ্জে শিশু হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ফারজানা সুলতানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগে গণপিটুনিতে সুমাইয়া খাতুন (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে সুমাইয়া খাতুনের বসতঘরের শোকেসের ড্রয়ার থেকে ফারজানা সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারজানা উপজেলার কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে।
সে কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
এছাড়া সুমাইয়া খাতুন একই গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।
তিনি ওই বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা স্কুলে যায়।
বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা কালিগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানান। পরে পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বসতঘরের শোকেসের ড্রয়ার থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, ফারজানার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয়।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ