শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে চুল দাঁড়ি কেটে মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে রেলগেটের খুঁটিতে বেঁধে গণধোলাই

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে  চুল দাঁড়ি কেটে মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায়  জুতার মালা পরিয়ে রেলগেটের খুঁটিতে বেঁধে গণধোলাই

পাবনার ঈশ্বরদীতে জুয়েল রানা (৪৩) নামের এক তরুণকে চুলার আগুনে কোরআন শরীফ পোড়ানোর অভিযোগ তাকে রেলওয়ে গেটের খুঁটিতে বেঁধে গণ ধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তার মুখে চুনকালি মাখিয়ে, মাথার চুল ও দাঁড়ি কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর বকশিরচক তালতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। কোরআন শরীফ পোড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত জুয়েল রানা লালপুর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম কলম এর ছেলে। কর্মস্থল ঈশ্বরদীতে হওয়ায় সে ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের শেফালি পট্টিতে জনৈক রতন আলীর বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো। এলাকার লোকজন ও পুলিশের ভাষ্য জুয়েল রানা মাদকাসক্ত হয়ে কোরআন পুড়িয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নিজেই কোরআন শরীফ পোড়ানোর দায় ও নিজের ভূল স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন জুয়েল রানা। পাকশী পুলিশ ফাঁড়ি ও ঈশ্বরদী থানার একদল পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এসময় এলাকাবাসী জুয়েলের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেয়। এসময় পুড়িয়ে ফেলা কোরআন শরীফের পোড়ানো পাতা ও ছাই দেখানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ইনামুল বাশার জানান, জুয়েল কোরআন পোড়ানো কয়েকটি পাতা ও ছাই পলিথিনের মধ্যে ভরে ঘরের চালার আড়ায় রেখে দিয়েছিল। লোকজন সেখান থেকে সে ছাইও উদ্ধার করে। 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলীম রিপন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা স্থানীয় মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় লোকমুখে এ খবর পেয়ে তারা জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার প্রমাণ পেয়ে তাকে বাড়ি থেকে ধরে আনেন। একে একে এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ তালতলা মোড়ে জড়ো হয়। স্থানীয়রা জুয়েল রানার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেললাইনের তালতলা রেলগেটের সঙ্গে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ হোসেন অভিযুক্ত জুয়েল রানার চুল-দাঁড়ি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এসময় কেউ কেউ তার মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। বকশিরচকের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ধর্মপ্রাণ মুসলমান। একজন মুসলমান হয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলার এ ঘটনা গ্রামবাসী কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। এ কারনে এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে ধরে এনেছে।  গ্রামবাসি আউয়াল হোসেন বলেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারপিট করলেও বড় ধরনের কোন ক্ষতি হওয়ার আগেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশিল হয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। 

অভিযুক্ত জুয়েল রানা কোরআন শরীফ পোড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘স্ত্রীর ওপর রাগ করে আমি চুলার আগনে ফেলে কোরআন পুড়িয়েছি, পরে আমি আমার ভূল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেন।’ 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন মাদকাসক্ত। সে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর করতো, জোর করে টাকা পয়সা নিয়ে যেতো। এজন্য তার স্ত্রী কোরআন শরীফের মধ্যে টাকা লুকিয়ে রাখতো। বিষয়টি টের পেয়ে রাগে সে কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। খবর পেয়ে অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।