শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন : ৮ ঘণ্টা পর রেল অবরোধ প্রত্যাহার, টিটিই বরখাস্ত

রাবি প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন : ৮ ঘণ্টা পর রেল অবরোধ প্রত্যাহার, টিটিই বরখাস্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে শারীরিকভাবে নির্যাতনের বিচারের দাবিতে আট ঘণ্টা রেলপথ অবরোধের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভাগীয় কমিশনার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তাঁরা।

এদিকে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল সদর দপ্তর থেকে অভিযুক্ত টিটিই-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওই টিটিইসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে কর্তব্যরত ট্রেনের টিটিই কর্তৃক শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে অন্তত ১০টি ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যস্ত হয় এবং আরও কয়েকটি ট্রেনের চলাচল অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

সিডিউল বিপর্যয় হওয়া ট্রেনগুলো হলো, পদ্মা এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, ঢালারচর এক্সপ্রেস। ঢাকা ও অন্যান্য এলাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখী ধুমকেতু এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। এ ছাড়াও সূচী বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে মধুমতী এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস। এ ছাড়াও দিনের বিভিন্ন সময়ের ট্রেনের সূচী বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিনিধিসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ছয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বাকি ৪ সদস্য হবেন রাজশাহী মেট্রোপলিট পুলিশের প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর, বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহীর প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম মিয়া।

এছাড়া বরখাস্ত হওয়া টিটিইসহ রেলওয়ের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের ৩ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করবে। পদ্মা, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পুনরায় স্টপেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন পর্যন্ত রাত্রিকালীন ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হবে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ রেলওয়ে নিশ্চিত করা হবে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট আবারও একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘটনাটি নিয়ে আমরা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ সকলকে নিয়ে দীর্ঘ সভা করেছি। সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৪টি দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমরা আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তাদের দাবি অনুযায়ী গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশ করা ট্রেনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাবিরতির জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা চাই, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।’

এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে সভায় যোগ দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে ৩টায় সভার রেজুলেশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমরা সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত সন্তষ্ট। আমরা অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাই। সাময়িক অসুবিধায় দীর্ঘ সমস্যা সমাধান আসবে আশা করি।

এর আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।