শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

নয় ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রী
নিজস্ব ও রাবি প্রতিবেদক ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব ও রাবি প্রতিবেদক ২১ জুলাই ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন
ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবি জানিয়ে নয় ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ করেছে রাবি শিক্ষার্থীরা। মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রায় নয় ঘণ্টার রেল অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার পর বিকেল পৌনে দিকে রেল অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকাল সাতটা থেকে নগরীর মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভারের নিচে রেল লাইন অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। সেখানেই আটকা পড়ে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে আন্তনগর ও লোকালসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়াও বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়।  

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো তদন্ত করবে। অপরদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরেকটি কমিটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে।

এছাড়া, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। একইসঙ্গে গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান  বলেন, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে তারই প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি, উপ-উপাচার্য, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিশনারসহ সবাই পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম অবরোধ উঠিয়ে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল, সেই চার দফা দাবির সবগুলোই মোটামুটিভাবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আলোচনার পর আমরা পূরণ করতে পেরেছি বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, যিনি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেনÑসেটা ঘুষ বা দুর্নীতি যেটাই হোক, সে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি এবং রেলওয়ের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই অবরোধের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। আন্তঃনগর ও লোকালসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। নির্দিষ্ট সময়ে কোন ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি।

এর আগে দুপুরে রাজশাহী স্টেশনে কথা হয় ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রী সাদমান হক বলেন, ছয় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। মনে হচ্ছে ট্রেন আরও দুই-তিন ঘণ্টা দেরি করবে। তাই বাধ্য হয়ে বাসে যেতে হবে। কিন্তু ট্রেন অবরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে রাখা সমাধান না।

অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন রোকসানা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু ট্রেন কখন ছাড়বে, কেউ বলতে পারছে না। কেউ কোনো তথ্যও দিচ্ছে না। অপেক্ষা করব, নাকি বাসে চলে যাব, বুঝতে পারছি না।

আরেক যাত্রী ফজলুল হকও ভ্রমণ না করেই স্টেশন ছেড়ে চলে যান। তিনি বলেন, এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু এর ভোগান্তি আমাদের কেন পোহাতে হবে?

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক জিয়াউল আহসান জানান, ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে। সিল্কসিটি এক্সপ্রেস আট ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় পদ্মা এক্সপ্রেস বন্ধ ছিল। কপোতাক্ষ, বরেন্দ্র ঢালারচর, মহানন্দা, ঢাকা মেইল এবং অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো দুই থেকে আট ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এই সময়ে চলাচলের জন্য নির্ধারিত সব ট্রেনের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। যেসব যাত্রী ভ্রমণ করতে পারছেন না, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।