বিএনপিকর্মী পরিচয়ে দোকান দখল যুবকের
রাজশাহী মহানগরীর উপশহরে বিএনপিকর্মী পরিচয়ে দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। সে নিজেকে বিএনপিকর্মী বলে দাবি করছে। দখলকৃত দোকানটি আগে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব যুবলীগের কার্যালয় ছিল।
বিএনপির এই কর্মীর নাম মো. অনিক। তার আপন বড়ভাই মিম কবির যুবলীগের রাজনীতি করতেন। ৫ আগস্টের পর থেকে সে এলাকা ছাড়া হন। অনিকের দোকানের নাম ‘মা এন্টারপ্রাইজ’। এর আগে পাশে একটি ছোট দোকান ছিল তার। এখন পুরোটা সে দখলে নিয়েছে।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, উপশহর নিউমার্কেট থেকে ক্যান্টনমেন্ট যেতে ভাঙা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পূর্ব দিকে এই দোকান। আগে এই দোকান ওয়ার্ড যুবলীগের কার্যালয় ছিল। ৫ আগস্টের পর থেকে ফাঁকা ছিল এই দোকান। সপ্তাহখানেক আগে এই দোকান দখল করা হয়।
এর আগে গেল ২৭ জুন দুপুরে গুড়িপাড়ায় মাদকসেবন অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অনিক। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অনিককে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সে নিজেকে কর্মী দাবি করছে। ৫ আগস্টের পর সে জামায়াতের কর্মী দাবি করতো। স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতার সঙ্গেও ওঠাবসা করতো। এর আগে সে যুবলীগ করতো। যুবলীগের হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছে।
দোকানের মালিক মুশফিকুর রহমান বলেন, এই দোকানঘর আগে যুবলীগ দখল করে কার্যালয় করেছিল। তারাও ভাড়া দিত না। ৫ আগস্টে ভাঙচুর করা হয়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও পরিত্যক্ত থাকবে বলে জানিয়েছিল। এরপর আমি আর কিছু করেনি। কয়েকদিন আগে দেখি অনিক সেখানে দোকান দিয়েছে। তার আগের দোকান ভাড়া দিয়েছে। এনিয়ে দুইবার শালিসও হয়েছে। তবুও সে ছাড়ছে না।
তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনিকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই এই বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বলেন, যুবলীগের কার্যালয় দখল করে দোকান দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু অনিক আমাদের দলের কেউ না। এর আগে সে নিজেও যুবলীগ করতো। কয়েকদিন আগে মাদকসেবনের অভিযোগে জেলও খেটে আসলো। বিষয়টি নিয়ে আমি বসবো। তাকেও সতর্ক করবো বিএনপি পরিচয় না দিতে।