শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পাকশী লালন শাহ সেতুতে ভুয়া পুলিশ সেজে অর্থ আদায়ের ভিডিও ভাইরাল

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন
পাকশী লালন শাহ সেতুতে ভুয়া পুলিশ সেজে অর্থ আদায়ের ভিডিও ভাইরাল

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী লালন শাহ সেতুর ওপর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধান করে এই চক্রের দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের একজনের নাম মো. রনি।

সে ঈশ্বরদীর বাঘইল পূর্বপাড়া সাঁকোর মুখ এলাকার রজব আলীর ছেলে। অপরজনের নাম জহির রায়হান। সে ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী গ্রামের চাঁদ আলী মোড়ের সরদারপাড়া এলাকার রশিদ সরদারের ছেলে। রনি ও জহিরসহ ৩ জনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাকশী লালন শাহ সেতুতে ভ্রমণকারীদের নিকট থেকে অভিনব কৌশলে নিজেদের কখনো পুলিশ, কখনো প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর এলাকার একধিক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত জহির রায়হান প্রায় তিন বছর আগে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্সে (সার্জেন্ট) চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতেন। বর্তমানে এই চাকরি ছেড়ে বেছে নিয়েছেন প্রতারণা কর্মকাণ্ড। তিনি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়া কিংবা বিমানবন্দরের বিভিন্ন মালামাল কম মূল্যে পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সুকৌশলে অনেকের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীদের ভাষ্য ৩ সদস্যের সক্রিয় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লালন শাহ সেতু এবং এর আশপাশের এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে।

সুযোগ বুঝে তারা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও সাধারণ পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। গত ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে লালন শাহ সেতুর ওপর এ ধরনের একটি প্রতারণার চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তাদের শনাক্ত করেছে প্রচুর মানুষ। ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সেতুর ওপরে দাঁড়ানো একজন মোটর সাইকেল চালকের নিকট হেলমেট পরা একজন ও হেলমেট ছাড়া দুজন ব্যক্তি সামনে থেকে এসে বলেন, ‘সেতুর ওপরে যানবাহন থামিয়ে দাঁড়ানো অপরাধ, সেসময় নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয়ে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হলো’Ñ একথা বলার সময় পাশের একজন মোবাইল ফোনে সে চিত্র ভিডিও ধারণ করেন।

ভিডিও করা হচ্ছে বুঝতে পেরে তারা তিনজন নিজেদের মুখ ঢাকার চেষ্টা করে সটকে পড়ছিলেন। তাদের ধাওয়া দিলে তারা দ্রুত মোটর সাইকেল চালিয়ে চলে যান কিন্তু ধারণ করা সে ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনা নিয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অনেকে তাদের মধ্যে দুজনের নাম পরিচয় আমাদের জানিয়েছে। সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা যাচাই করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।