কুয়াশাচ্ছন্ন ও হিমেল হাওয়ার বেড়েছে শীতের প্রকোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার ও হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব বেশি ব্যবধান না থাকার কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিনভর দেখা মেলেনি সূর্যের। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া ছিল দিনভর।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরের দিন রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এদিন রোবাবর (২৮ ডিসেম্বর) দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়নি। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল নিকলিতে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এছাড়া আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃষ্টির কারণে কদর বেড়েছে সগরম পোশাকের। নগরীর ফুটপাত ও কাপড়ের দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়েছে শীতের পোশাকের।
নগরের বুধপাড়া রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার জানান, ‘কয়দিন থেকে শীত বেশি পড়ছে। শীতের সাথে বইছে ঝিরিঝিরি বাতাস। এই ঝিরিঝিরি বাতাসে বাড়িয়েছে শীতের তীব্রতা। দাঁড়িয়ে থাকলে বাতাসে মনে হচ্ছে-কাপড় ভিজে যাচ্ছে। এবছর সরকারি-বেসরকারিভাবে শীত নিবারণের জন্য কম্বল দেয়া হয়নি।
একই এলাকার হৃদয় আলী। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। হৃদয় জানায়- ‘রাতে কুয়াশা বৃষ্টির মতো টপটপ করে ঝরছে। বাইরে বের হলে বাতাসে কাবু করে দিচ্ছে। শরীরে কাঁপুনি উঠে যাচ্ছে। কয়েক দিন থেকে কাজে যায়নি। ডায়েরিয়া হয়েছিলো- মনে হচ্ছে ঠান্ডা লাগার কারণে।’
এ বিষয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব বেশি ব্যবধান নেই। তাই বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। শনিবারের তুলনায় রোববার তাপমাত্রা বেড়েছে। রোবাবর (২৮ ডিসেম্বর) দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।