রাজশাহীতে হৃদরোগ শনাক্তে তিন দিনে ২৪২২ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা এগারোটায় রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ২২ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তিন থেকে আঠারো বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ ও ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
চীনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান চিনের সাথে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, কোর্ট-নাটোর রোড থেকে হার্ট ফাউন্ডেশনে আসার সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও আরডিএ-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদান বরাদ্দের আশ্বাস দেন তিনি ।
এসময় তিনি চীনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হসপিটালের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিশেষজ্ঞ দলের টিম লিডার লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা. মো. আতাউল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীফ কনসালটেন্ট ও ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. মো. রইছ উদ্দিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. হাসেন আলী ও মো. মাকসুদুল করিম সম্রাট। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে ২ হাজার ৪২২ জন শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ৫৬ জনের হৃদরোগ শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসায় বিশেষ এই উদ্যোগ নেয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহী। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনেই চিকিৎসা কার্যক্রম চলে।
এ চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতাল। এ জন্য চীন থেকে ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রাজশাহী আসেন। পাশাপাশি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগের আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও সেবা দেন।
তিন দিনের চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান জানান, ৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী নাম নিবন্ধন করেছিল। এরমধ্যে ২ হাজার ৪২২ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এতে ৫৬ জন শিশুর জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত হয়। এরমধ্যে দুজনের অস্ত্রোপচার হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ, বেড ভাড়া ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া একজনকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য চীনে নেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেলা ১১টায় এ চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদরের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চীনের সাথে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি চীনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সভাপতি মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হসপিটালের ডেপুটি ডিরেক্টর লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আতাউল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীফ কনসালটেন্ট ডা. মো. রইছ উদ্দিন প্রমুখ।