পুলিশ আসায় পালালেন ডাকাতি মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা
পাবনার ঈশ্বরদীতে ঈশ্বরদী ইপিজেডের ঝুট বোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ও মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতি মামলার আসামী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি মামলাটি মিথ্যা দাবি করে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন আহবান করেন ওই মামলার আসামী নুরুন্নবী। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ উপস্থিত হলে সংবাদ সম্মেলন আহবানকারী নুরুন্নবী পালিয়ে যায়।
গতকাল রাতেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়াড় বাঘাইল এলাকা থেকে ঈশ্বরদী ইপিজেডের ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ১০-১২ জনের একদল সসস্ত্র ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ওই রাতেই এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব। পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঝুটসহ মালামালের দাম প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পাবনার গাছপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাক দুটি উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে মামলার আসামি মো. নিজামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ট্রাকে বোঝাই ঝুটগুলো ইপিজেড থেকে বের করে পাকশীর দিয়াড় বাঘইল পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন একটি ওজন স্কেলে পরিমাপের জন্য নেওয়া হয়। এ সময় ১০-১২ জন যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় ট্রাকচালক, হেলপার ও ওজনযন্ত্রের কয়েকজন কর্মচারীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং কিল-ঘুষি মেরে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ট্রাক দুটি পাকশীর নতুন রূপপুর স্কুলের পাশে একটি কড়ইগাছের নিচে কিছুক্ষণ রাখার পরে পাবনা শহরের বিসিক এলাকায় গিয়ে পুনরায় ওজন পরিমাপ করান এবং পাবনার বাইপাস সড়কসংলগ্ন গাছপাড়া এলাকায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিম্মি ট্রাকচালক ও ঝুটসহ ট্রাক দুটি উদ্ধার করে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযানে নেমেছে।