এক সপ্তাহে দ্বিগুন দাম কাঁচামরিচের
রান্নাবান্নায় অপরিহার্য উপাদান কাঁচামরিচের দাম খুচরা বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমার অজুহাতে ঝাল এই পণ্যের চড়া দামে বাজারে এসে নাজেহাল হচ্ছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাঁচামরিচের পাশাপাশি পেঁয়াজ ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাহেববাজারে ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝাঁল ছড়াচ্ছে কাঁচামরিচ। বাজারভেদে প্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি কেজিতে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২৪০-২৮০ টাকায়। কাঁচামরিচের এই চড়া দামের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের দামও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। মসলার বাজারে পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৫-৬৫ টাকা। তবে রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। দেশি ও আমদানিকৃত রসুন ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খুব একটা লক্ষণ নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। দেশি জাতের বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা । কাঁচাকলা এক হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ টাকা। লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা পেঁপে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, পটল ৫০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৭০ টাকা কেজি, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৫০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা কেজি ধুন্দল ৫০ টাকা কেজি প্রতি এবং চিচিংগা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুঁইশাক ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাকরিজীবী আসাদুল ইসলাম বলেন, কাঁচামরিচের পোয়া ৬০ টাকা মানে কেজিতে ২৪০ টাকা। বাজারে ঢুকলে পকেটের টাকা যেন নিমেষেই শেষ হয়ে যায়। বেতনের সীমিত আয় দিয়ে এই চড়া বাজারে সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন রান্নার বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা খোকন বলেন, আমরা নিজেরাও চড়া দামে আড়ত থেকে পণ্য কিনছি। বৃষ্টির কারণে খেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, তাই আমাদেরও কিছুটা বাড়তি দামে বেচতে হচ্ছে। পাইকারিতে দাম কমলে আমরাও খুচরায় সঙ্গে সঙ্গে দাম কমিয়ে দেব।
আমিষের বাজারে মাছ ও মাংসের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মৃগেল মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, সিলভার কার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাংগাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজিতে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংসের দামের বর্তমান রেকর্ড ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৩৩০ টাকা । ডিমের বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা এবং ফার্মের সাদা ডিম ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং লাল ডিম ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা প্রতি হালি।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, মেসে থাকি, মাস শেষে পকেটের টান এমনিতেই বেশি থাকে। কাঁচামরিচ আর সবজির এই আকাশছোঁয়া দামে এখন হাত খালি হয়ে যাচ্ছে। আগে অল্প খরচে সবজি দিয়ে দিন চালিয়ে দিতাম, এখন সেই উপায়ও নেই।
মাছ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম, কাঁচামরিচ আর সবজির দাম বাড়লে প্রভাব আমাদের মাছের বাজারেও এসে পড়ে। রান্নার জন্য মরিচ-পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে দেখে ক্রেতারা মাছের বাজারে এসে দরদাম অনেক কমিয়ে দেয়। মানুষের পকেটে টানাটানি থাকায় এখন বড় মাছ কেউ ছুঁয়েও দেখে না, মাঝারি বা ছোট মাছের বেচাকেনাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।