ডিসি পার্কের পুকুরে গোসলে নেমে অনার্সের ছাত্র রিমনের মৃত্যু
বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজের পর পানিতে ডুবে পাবনার ঈশ্বরদীর মেধাবী কলেজ ছাত্র কাউসার মাহমুদ রিমনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে নিখোঁজের পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রিমন ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলাম পাড়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে। সে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে রসায়ন বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলো। রিমন তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কুষ্টিয়া শহরের উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে কাওসার তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। সাঁতার কেটে পুকুরের মাঝখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে কাওসারের বন্ধু শাওন বলেন, আমরা সাঁতার কেটে পুকুরের ওপারে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ কাওসারকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করতে শুনি। তাকে উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক চেষ্টা চালিয়েছিলাম, কিন্তু পানি অনেক গভীর হওয়ায় এবং সে দ্রুত তলিয়ে যাওয়ার কারনে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর কাওসারের মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াদুদ হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করেছিল। তবে শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কাওসারের চাচাতো ভাই মো. ফিরোজ জানিয়েছেন, হাসপাতালের আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, পুলিশ এ ঘটনার খবর লোকমুখে জানতে পেরেছে। তবে এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।