শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহীতে আবারও বাড়ছে তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে আবারও বাড়ছে তাপমাত্রা

রাজশাহীতে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি শেষে আবারও বাড়ছে তাপমাত্রা। বর্ষাকালেও উল্টো ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে নগরবাসী। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে রোববার (২৬ জুলাই) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

খাতা-কলমে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি শোনালেও উচ্চ জলীয় বাষ্পের কারণে বাস্তবে অনুভূত গরমের মাত্রা বা ‘হিট ইনডেক্স’ এর চেয়েও অনেক বেশি তীব্র। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ৭৪ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় তা ৬৮ শতাংশে অবস্থান করায় একপ্রকার দমবন্ধ ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনভর বৃষ্টিহীন কড়া রোদ ও শুষ্ক আবহাওয়া সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে চরম বিপর্যস্ত।

এদিকে ভ্যাপসা আবহাওয়ার প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন; শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশির প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। । চিকিৎসকরা এই সময়ে অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া, প্রচুর পরিমাণে ডাবের পানি ও খাওয়ার স্যালাইন পান করা এবং সুতি পোশাক পরিধানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সীমা আকতার বলেন, ছাতা মাথায় দিয়ে বের হয়েও রোদের তাপ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। বাতাস এত ভ্যাপসা যে মনে হয় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। একটু হাঁটলেই পুরো পোশাক ভিজে যায়, চলন্ত রিকশা তেও ঘাম শুকায় না।

অন্যদিকে বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গরম থেকে স্বস্তি পেতে ঘরে ঘরে ফ্যান, এসি ও কুলার ব্যবহারের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এতে লোডের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া ছিল। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর রিফা সানজিদা বলেন, পরীক্ষা আর ক্লাসের চাপে সকালে বের তো হই, কিন্তু ক্যাম্পাসে হেঁটে ক্লাসরুমে যেতে যেতেই পুরো শরীর ঘেমে একদম নাজেহাল হয়ে পড়ে। এই গরমে ক্লাসরুমে মন বসানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই গরমে পড়াশোনা তো দূরের কথা, সাধারণ সুস্থ জীবনযাপন করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

চা দোকানদার রফিক উদ্দিন বলেন, এমনিতেই বাইরের আবহাওয়া চুলার মতো গরম, তার ওপর দিনভর চুলা জ্বেলে লাল চা-দুধ চা বানাতে হয়। একদম নরক যন্ত্রণা যাকে বলে। গরমের কারণে দিনের বেলা মানুষের চা খাওয়া অনেকটাই কমে গেছে, সবাই এসে ঠাণ্ডা পানি বা ডাবের খোঁজে থাকে। সন্ধ্যার পর একটু ভিড় হলেও সারা দিনের লোকসান পোষানো কঠিন হয়ে যায়।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি শেষে আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। আগামী মাসের শুরুতে বৃষ্টিপাত বাড়বে।