রাবির সাংবাদিকতা বিভাগ ও সোনার দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সাংবাদিকতা শিক্ষা ও পেশাদারি চর্চাকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক সোনার দেশের এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল (সাজ্জাদ বকুল) এবং দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।
জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা ডয়চে ভেলে একাডেমি এর উদ্যোগে এবং সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্টের বাস্তবায়নে ÔTo Strengthen Journalism Education and Practice in Northern BangladeshÕ শীর্ষক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হলো। এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ সুগম করা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ চর্চার সুযোগ তৈরি করা এবং উত্তরাঞ্চলের গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে যৌথ ভূমিকা রাখা।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডয়চে ভেলে একাডেমির প্রতিনিধি জিমি আমির, সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্টের (সাকমিড) নির্বাহী পরিচালক কামরুল আহসান, বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক দিল আফরোজা খাতুন, সহযোগী অধ্যাপক আমেনা খাতুন। এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ও উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাকমিডের পক্ষে ইয়াসিন আহমেদ (জীবু)।
প্রকল্পের পটভূমি ও লক্ষ্য তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্টের (সাকমিড) নির্বাহী পরিচালক কামরুল আহসান বলেন, আমরা মূলত ঢাকা থেকে কাজ করলেও বাংলাদেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা পড়ানো হয়, সেখানকার শিক্ষার্থীদের আরও ব্যবহারিক কাজের সুযোগ তৈরিতে মনোযোগী। কেবল তত্ত্বীয় বা পরীক্ষামুখী শিক্ষার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার মতো প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ের যে চ্যালেঞ্জ তা পুরোপুরি অতিক্রম করা যায় না। তাই বছরব্যাপী শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ের কাজের অভ্যস্ততা ও দক্ষতা বাড়াতেই আমাদের এই আয়োজন।
ডয়চে ভেলে একাডেমির প্রতিনিধি জিমি আমির বলেন, বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডয়চে ভেলে একাডেমির এক চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিকতার বৈশ্বিক ট্রেন্ড পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের কোর্সের বাইরেও প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কেবল প্রশিক্ষণ দিলেই হয় না, শিক্ষার্থীরা মাঠপর্যায়ে কাজের প্রয়োগ বুঝতে পারছেন কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় মিডিয়া হাউজগুলোর মধ্যে এমন মেলবন্ধন তৈরি করতে চাই, যাতে একদিকে শিক্ষার্থীরা হাতেনাতে সাংবাদিকতা শিখতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও একাডেমিয়া থেকে নানা ধরনের রিসোর্স ও গবেষণামূলক সহায়তা পায়।
দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত বলেন, সাংবাদিকতা একটি গতিশীল ও প্র্যাকটিক্যাল বিদ্যা, যেখানে শ্রেণিকক্ষের জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা দরকার।একইসঙ্গে আজীবন শেখার মানসিকতা থাকা জরুরি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও নিজস্ব সক্ষমতা ধরে রেখে টিকিয়ে থাকার নামই সাংবাদিকতা। নানা বাধা ও প্রযুক্তির চ্যালেন্জের মধ্যেও নীতি-নৈতিকতার প্রতি অবিচল থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমাদের শ্রেণিকক্ষের একাডেমিক জানাশোনা ও পাঠের সাথে পেশাদার গণমাধ্যম হাউজের একটি প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় সংযোগ তৈরি হলো। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব সাংবাদিকতার সাথে পরিচিত হওয়ার এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করার একটি দারুণ আনুষ্ঠানিক সুযোগ পেল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল (সাজ্জাদ বকুল)। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সাজ্জাদ বকুল বলেন, সাধারণত সমঝোতা স্মারকগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু আমরা চেয়েছি এর কার্যকর প্রয়োগ ঘটাতে। দৈনিক সোনার দেশের সঙ্গে আমাদের বিভাগের সম্পর্ক কোনো নতুন বিষয় নয়; আনুষ্ঠানিক চুক্তির বহু আগে থেকেই সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের একটি গভীর পেশাগত ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সীমাবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীতে সুস্থ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা করে আসছেন। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণার জায়গায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি সেরা প্রতিবেদনগুলো সোনার দেশে প্রকাশের সুযোগ পাবে। ‘মিডিয়া অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একাডেমি’র তৈরি এক্সক্লুসিভ ফিচার ও সাংবাদিকতা মডিউলের মাধ্যমে সোনার দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তথ্য বিকৃতি ও অপপ্রচারের এই যুগে ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমগুলোর জন্য ফ্যাক্টচেকিং ডেস্ক থাকা অপরিহার্য। প্রতিটি গণমাধ্যমেই এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। আমাদের বিভাগের ৩ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী সোনার দেশে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ধারণা দিতে এক্সপোজার ভিজিট এর আয়োজন করা হবে।
এই যৌথ উদ্যোগ গণমাধ্যম শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগতভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিভাগের সভাপতি।