শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাকসু জিএস আম্মারকে ঘিরে ঢাবি অধ্যাপক মামুনের ফেসবুক পোস্ট

সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ডেস্ক ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:২২ অপরাহ্ন
রাকসু জিএস আম্মারকে ঘিরে ঢাবি অধ্যাপক মামুনের ফেসবুক পোস্ট
অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আম্মারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণের আহ্বান জানান।


সোমবার (২৭ জুলাই) ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত নেতারা দক্ষ বক্তা, মানবিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক ছাত্রনেতার ভাষা ও আচরণের মান এতটাই নিম্নমুখী হয়েছে যে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”


পোস্টে তিনি লেখেন, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের ভয়ে দৌড়াতে হয়েছিল। আর এখন দেখা যাচ্ছে, একজন ছাত্রনেতা শুধু ছাত্রলীগ করার অভিযোগে একজনকে মারধর করছেন।


প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আইন কেন নিজের হাতে তুলে নিতে হবে? ছাত্রলীগের কেউ অন্যায় করে থাকলে তার প্রশাসনিক বিচার হতে পারে, ফৌজদারি অপরাধ করলে পুলিশি মামলাও হতে পারে। কিন্তু একজন ছাত্রনেতা হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”


অধ্যাপক মামুন আরো লেখেন, তাকে প্রায়ই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন—শত শত সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা জাতীয় ক্ষতি কি না। এর জবাবে অ্যধাপক মামুন বলেন, “এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তারা পরিবার ও সমাজের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে। হতাশা থেকে কেউ মাদকাসক্তি বা সহিংসতার পথেও জড়িয়ে পড়তে পারে, যা সমাজের জন্য আরো ক্ষতিকর হবে।”


তিনি প্রস্তাব দেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন সরাসরি অপরাধ বা অন্যায়ের অভিযোগ রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা করতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত।


পোস্টে তিনি দাবি করেন, অতীতে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে ছাত্রলীগে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ আবাসিক হলে একটি সিটের জন্য, আবার কাউকে জোর করেও সংগঠনটিতে যুক্ত করা হয়েছিল।


বর্তমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাও অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “শুধু কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে একইভাবে দেখলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।” 


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি