শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর না হলে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্ভব নয় : ফরাসি রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ন
অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর না হলে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্ভব নয় : ফরাসি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তার ভাষায়, শুল্কের চেয়ে অনেক সময় অশুল্ক বাধাই ব্যবসার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।


বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও জার্মান প্রতিষ্ঠান ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেছেন, ফ্রান্সের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কোম্পানিকে এখনো নানা ধরনের প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।


তিনি বললেন,‘বাংলাদেশ ফ্রান্সে ১০টি পণ্য রপ্তানি করলেও ফ্রান্স বাংলাদেশে মাত্র একটি পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাই এর অন্যতম কারণ। তবে টেকসই বাণিজ্যের জন্য পারস্পরিক সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।


অশুল্ক বাণিজ্য বাধার ব্যাখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘কারিগরি মানদণ্ড, জটিল বিধিবিধান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় প্রতিবন্ধক। এ বাধা দূর করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ফ্রান্স।’


তিনি বললেন, ‘অনেক সময় শুল্কের চেয়েও অশুল্ক বাধা বেশি কঠোর হয়ে ওঠে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘খাদ্যের মান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতায় কোনো দেশে চকলেট কাস্টমসে আটকে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ভবিষ্যতে আর সে দেশে রপ্তানির আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।’


বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বললেন, ‘তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’


তিনি বলেছেন, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিধিনিষেধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঘাটতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।


বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ বাস্তবতায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।


পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বললেন, বাংলাদেশের উচিত অভিন্ন মূল্যবোধসম্পন্ন দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা, তবে নিজের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে।


রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সমালোচনার পাশাপাশি ২০০৩ সালে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন তিনি।


একই সঙ্গে বলেছেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতেই আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে।


অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন এফইএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গের্ডেস। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট ও টেলিভিশন উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।