শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার কেন্দ্রে আয়েশা সিদ্দিকা!

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার কেন্দ্রে আয়েশা সিদ্দিকা!

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছে আয়েশা সিদ্দিকা মৌ নামে এক শিক্ষার্থী। যে বাবার হাত ধরেই প্রথম স্কুলযাত্রা আয়েশার। প্রতিটি পরীক্ষার আগের রাতে তার থেকে বাবার দুশ্চিন্তাই ছিল বেশি। অথচ আজ  বাবাকে ছাড়াই যেতে হয়েছে পরীক্ষার কেন্দ্রে।


জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ফুসফুসের জটিলতার কারণে রাজধানীতে ইবনেসিনা হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়েশার বাবা মারা যায়। আজ বুধবার সকাল দশটায় তার এসএসসি পরীক্ষা। বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। বায়োলজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ছিল তার। পরীক্ষা শেষে মৌকে কেন্দ্র থেকে বের হতে শুধুই কান্নার আহাজারি শুনতে পাওয়া যায়। আর দুচোখে ঝরছে বাবা হারানোর আহত হৃদয়ে বেদনার অশ্রু! সহপাঠীরা মৌকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন আর ভ্যান গাড়িতে নিয়ে বাসায় পৌঁছে দিতে দেখা যায়। 


ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায়। জানা যায়, আয়েশা সিদ্দিকা নজিপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তার বাবা মিজানুর রহমান ধামইরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলায় নজিপুর পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের ঈদগাঁ পাড়ার বাসিন্দা। আয়েশার বাবার পৈত্রিক বাড়ি জেলার ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়িতে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে।


স্বজনেরা জানান, ‘মৃত্যুর পর বাবা হারা আয়েশা ভেঙে পড়লেও স্বজনদের উৎসাহে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়। আয়েশার পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম। অপরদিকে, আয়েশা সিদ্দিকা নজিপুর মহিলা কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় সে।


নজিপুর সরকারি কলেজের আয়েশা সিদ্দিকা মৌয়ের সহপাঠীরা জানান, ‘বটবৃক্ষ নামক বাবাকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছে বান্ধবী মৌ। আমাদের তাকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কিছু নেই! কতোটা শোকে কাতর হৃদয় নিয়ে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি গিয়ে আর কখনো বাবাকে দেখতে পাবে না। বাবা বলে ডাকতে পাবে না মৌ! ইস্...! দোয়া করি বান্ধবী মৌয়ের বাবাকে মহান আল্লাহ পাক জান্নাত নসিব করুক। -আমিন।’


নজিপুর মহিলা কলেজর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এক হাতে চোখ মুছে ও অন্য হাতে খাতায় লিখতে দেখা গেছে তাকে। আমরাও তাকে পরীক্ষা দিতে সান্ত্বনার পাশাপাশি উৎসাহ দিয়েছি।’