শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

হবিগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০২৬ ০১:৩০ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০২৬ ০১:৩০ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ২৯ জুলাই ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।


“তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।”


এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে এ হামলার প্রতিবাদে বুধবার এনসিপি ও যুবদল-ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই থমথমে হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর।


এ অবস্থায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।


পরে বুধবার বিকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

গাড়িবহরে ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


তবে বাহুবল উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশীদপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরের গতিরোধ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।


পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার অনুমতি চায় দলটি। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ।


পরে উভয় পক্ষের সমঝোতায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপি নেতারা।


পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, অভিযোগটি হাতে লেখা হওয়ায় সেটি গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হবিগঞ্জ সদর থানায় পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ