ইঞ্জিনে আগুন, তিন ঘণ্টা বন্ধ রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে শিডিউল বিপর্যয় সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করায় শত শত যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে রাজশাহীর চব্বিশনগর স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিকল্প ইঞ্জিন এনে বিকেল নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ঈশ্বরদীগামী ট্রেনটি রাজশাহীর চব্বিশনগর স্টেশনে পৌঁছার পর হঠাৎ ইঞ্জিনের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ট্রেনের চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন থামিয়ে দেন এবং যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেন।
হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ইঞ্জিনটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিকল্প ইঞ্জিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইঞ্জিন বিকল হয়ে রেলপথে আটকে পড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ থাকে এবং পরবর্তী ট্রেনগুলোর সময়সূচিও বিঘ্নিত হয়। এতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার শহিদুল আলম বলেন, ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগুনে কোনো যাত্রী হতাহত হননি। ইঞ্জিনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনটি সরিয়ে নেওয়ার পর বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আটকে থাকা অন্যান্য ট্রেনও পর্যায়ক্রমে চলাচল শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রেলপথে চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ইঞ্জিনের কারিগরি পরীক্ষা এবং পুরোনো ইঞ্জিনের আধুনিকায়নের মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।