পদ্মায় নৌকাডুবি : দুইদিন পর বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা ও ছেলের মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাবার মরদেহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাংলাবাজার ও দুপুরে ছেলের মরদেহ পবার চরসাতবাড়িয়া থেকে উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশ রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাজশাহীর পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ দুজনের মধ্যে একজনের মরদেহ কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ৮টায় কুষ্টিয়া বাংলাবাজার পাকশী ব্রিজ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় ডুবে যাওয়া নৌকাটির মাঝি কাওসার আলীর (৬০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকার পদ্মা নদী থেকে নিহত মাঝি কাওসার আলীর ছেলে জিয়ারুল হকের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশ সুপার আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ গত দুই দিন থেকে তারা এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলেন। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ভেসে যায়। যাদের একজনের মরদেহ কুষ্টিয়া বাংলাবাজার পাকশী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে ভেসে ওঠে। উদ্ধার হওয়া বাবা ছেলের মরদেহ এরই মধ্যে তাদের বাড়ি কাটাখালি থানার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী জানান, এ ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের আপত্তি না থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত ঝাউগাছ বোঝাই একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নৌকার মাঝি বাবা ও ছেলে নিখোঁজ ছিলেন।
চর মাজারদিয়ার এলাকা থেকে ৮ জন যাত্রী এবং ঝাউগাছ বোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এবং পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও তাদের কোন খোঁজ পাননি।