শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে ভূয়া এনজিওর মালিকের খোঁজে ম্যানেজারের পুরস্কার ঘোষণা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে ভূয়া এনজিওর মালিকের খোঁজে ম্যানেজারের পুরস্কার ঘোষণা

‘সহজ শর্তে’ ঋণ ও পণ্যের লোভ দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের নিকট থেকে ১০ লাখ টাকারও বেশি পরিমান জামানত সংগ্রহ করে রাতারাতি উধাও হয়েছেন ‘উদয়ন প্রোডাক্ট সেলিং সার্ভিস’ নামের একটি এনজিওর মালিক হাসান মাহমুদ। ওই এনজিওর ম্যানেজার মহিদুল ইসলাম সানি নিজেও প্রতারনার শিকার হয়ে এনজিও মালিকের খোঁজে এক লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল শহীদ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। 


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, এনজিওর অফিস তালাবদ্ধ। ভুক্তভোগীদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে সঞ্চয় দিয়েছিলেন তারা। পরে ঋণ নিতে গিয়ে দেখেন- অফিসে ঝুলছে তালা। গ্রাহকরা জানতে পেরেছেন জামানতের সব টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন এনজিও মালিক হাসান মাহমুদ। মানিকনগর গ্রামের গ্রাহক স্বপন দাস বলেন, আমি দিনমজুর। লাভের আশায় কষ্ট করে এখানে দশ হাজার টাকা জমিয়েছিলাম। বাঘইল গ্রামের রিপন হোসেন বলেন, আমি নিজে দশ হাজার টাকা জমা করেছিলাম, এখন দেখি লাভ তো দুরে থাক আসল টাকাই খোয়া গেছে। বেশ কয়েকজন গ্রাহক বলেন, এ সমিতির সদস্যদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র ও সনাতন ধর্মাবলম্বী। পাকশীর হরিজন কলোনীর প্রায় শতাধিক সুইপারও রয়েছেন এ এনজির সদস্য। হতদরিদ্র এসব মানুষও প্রতারনার শিকার হয়েছেন। 


উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল শহীদ পাড়া এলাকার উদয়ন প্রোডাক্ট সেলিং সার্ভিস নামের এনজিও সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল শহীদ পাড়া এলাকার রুবেল হোসেনের বাসা ভাড়া নেন উদয়ন প্রোডাক্ট সেলিং সার্ভিসের মালিক হাসান মাহমুদ। এরপর আশেপাশে কয়েক এলাকায় নিয়োগ দেন বেশ কিছু নারী কর্মীদের। এনজিওর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কৌশলে স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম সানিকে নিয়োগ দেন ম্যানেজার পদে। এরপর নামেন অর্থ সংগ্রহে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে লাখ দশেক টাকা সংগ্রহ করে সব টাকা নিয়ে অফিস তালা মেরে পালিয়ে গেছেন হাসান মাহমুদ। 


বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে প্রতারনার শিকার গ্রাহকরা সেখানে জড়ো হন। প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এসব শতাধিক গ্রাহক। এনজিওর ম্যানেজার মহিদুল ইসলাম সানি বলেন, অফিসের জরুরি কাজের কথা বলে কয়েকদিন আগে আমাকে ঢাকা পাঠিয়ে তিনি অফিস বন্ধ করে চলে যান।  এর পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ। গ্রাহক 


ম্যানেজার সানি বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে যাচাইবাছাই না করেই এনজিওটিতে চাকরির আবেদন করেছিলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে জেনারেল ম্যানেজার পদে নিয়োগ পাই। সব ঠিকঠাকই চলছিল। তালিকা অনুযায়ী নারী কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩শ’ সদস্য সংগ্রহ করা হয়। তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন মেয়াদী জামানত নেওয়ার পর দশ লাখ টাকার মত জমা হয়। এর পর এ ঘটনা ঘটে। সানির দাবি ‘স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ভুক্তভোগীরা এখন আমাকে ধরছে। অথচ আমি এই প্রতারণার কিছুই জানি না। গ্রাহকদের চাপের মুখে পাকশী পুলিশ ফাঁড়িতে হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারক হাসানের সন্ধান পেতে এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছি।’


বাড়ির মালিক রুবেল হোসেন জানান, কোনো চুক্তিপত্র ছাড়াই তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন। এখন ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি প্রশাসনের চাপে আছেন তিনিও।


অভিযুক্ত এনজিও মালিক হাসান মাহমুদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানালেন, ভূয়া এনজিওর প্রতারণার বিষয়ে তারা অবগত। তবে লিখিত অভিযোগ পাকশী ফাঁড়ি থেকে বা সরাসরি এখনো আমার হাতে আসেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।