রাকসুর জিএস আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাত আরও ১৮ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করেন আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা এমএস আসাদ উজ জামান। অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার (২৪), এজিএস সালমান সাব্বির (২৬), রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব (২৪), রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব (২৭), রাবির সিনেট সদস্য ও ছাত্রশিবিরের উপদেষ্টা ফাহিম রেজা (২৬), জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান ও নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহিনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমএস আসাদ উজ জামান উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম, বাম চোখে আঘাত এবং বুকে আঘাত লেগে বুকের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসানকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে এ মামলার অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য বা এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মামলার আইনজীবী হযরত আলী বলেন, মামলাটি আদালত সরাসরি গ্রহণ করেননি। এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে দেওয়া হয়েছে। তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
তিনি বলেন, অভিযোগে আরও ১৭ থেকে ১৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমএস আসাদ উজ জামান অভিযোগ করেন, খবরটি তিনি ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। পরে ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। তাই আদালতে অভিযোগ করেছেন।
রাজশাহীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল বলেন, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ২৭ বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের আদেশ পাইনি। আদালত বৃহস্পতিবার আদেশ দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে আমাদের দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। রোববার বা সোমবার পেতে পারি।