শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

কাঁচামরিচে ট্রিপল সেঞ্চুরি, ঊর্ধ্বমুখী সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
কাঁচামরিচে ট্রিপল সেঞ্চুরি, ঊর্ধ্বমুখী সবজি

শ্রাবণে মৌসুমী মেঘের আনাগোনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কাঁচাবাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, বেগুন, পটল, মিষ্টি কুমড়া থেকে শুরু করে পোলাও এর চাল সব ধরনের সবজি ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের দাম আকাশচুম্বী। সবজির দাম বাড়ার পেছনে বৃষ্টিকে দায়ি করছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা দাবি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো আবারও পণ্যর দাম বাড়াচ্ছে।    


গ্রাম বা চরাঞ্চল থেকে যে সবজি ১০ টাকায় কেনা হচ্ছে, আড়তদার, ফড়িয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অন্তত তিন-চারটি ধাপ পেরিয়ে নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, উপশহর বা শালবাগান বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার দাম হয়ে যাচ্ছে তিন থেকে চারগুণ। পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই বিশাল ব্যবধান দূর করার কার্যকর তদারকি না থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেট।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) নগরীর সাহেববাজার, শালবাগান, উপশহর, লক্ষীপুর, সাগরপাড়া ও ভদ্রা ঘুরে দেখা গেছে, এখন ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো সবজি। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পটলের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে লাফিয়ে পৌঁছেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে কাঁচামরিচের দাম। স্থানভেদে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায়।


কাঁচামরিচের এই চড়া ভাবের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের দামও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। মসলার বাজারে পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৫- ৬৫ টাকা। তবে রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। দেশি ও আমদানিকৃত রসুন ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


সবজির বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খুব একটা লক্ষণ নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। কাঁচাকলা এক হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লাউ প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা পেপে ৪০ থেকে ৫০  টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি প্রতি এবং চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পুঁইশাক ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 


সবজি বিক্রেতা রাজ্জাক মোল্লা বলেন, আমরা নিজেরাও চড়া দামে আড়ত থেকে পণ্য কিনছি, তাই আমাদেরও কিছুটা বাড়তি দামে বেচতে হচ্ছে। পাইকারিতে দাম কমলে আমরাও খুচরায় সঙ্গে সঙ্গে দাম কমিয়ে দেব।


সবজির পাশাপাশি এবার একযোগে লাফিয়ে বেড়েছে ডিমের দাম, দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং ফার্মের সাদা ডিম ৪২ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং লাল ডিম ৪৬ থেকে ৫০ টাকা প্রতি হালি। আমিষের বাজারে মাছ ও মাংসের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মোরগ-মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০  টাকা ।


গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০  টাকা এবং খাসির মাংসের দামের বর্তমান রেকর্ড ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। 


মৃগেল মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, সিলভার কার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাংগাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজিতে।


শিক্ষার্থী রিফা সানজিদা বলেন, আমরা স্টুডেন্ট এইভাবে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেলে আমাদের জন্য অনেক সমস্যা হয়। তার ওপর আমরা একা থাকি তারা আমাদের অল্প জিনিস দিতেই চাই না, খুব বিরক্ত হয়। এতো দামের জন্য চাইলেও বেশি কিনতে পারি না কারণ আমাদের হাত খরচ পরিবার থেকে যা দেই তার মধ্যে চলতে হয়। প্রতিবার এইভাবে দাম বাড়লে কিভাবে চলবো?