শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো’

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ন
‘আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো’

‘আমার মৃত্যুর জন্য স্বামী আজম, শ্বাশুড়ি, শ্বশুর ও আসলাম দায়ী। স্বামী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত এবং সে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। একপর্যায়ে আজম আমার গলা টিপে ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেয়।’ নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন বক্তব্য রেকর্ড করে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে মেঘনা খাতুন (২১) নামের এক গৃহবধু। সোমবার পাবনার ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিওতে গৃহবধু মেঘনা নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং স্বামীর উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো। অনেক ভালোবেসে পরিবার ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলাম, মানসিক যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না।’ মেঘনা খাতুন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার হারুন উর রশিদের মেয়ে এবং ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শফি মন্ডলের ছেলে গোলাম আজম আলী মন্ডলের স্ত্রী। মৃত্যুর আগে নিজের ধারণ করা ভিডিওতে মেঘনা তার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্বামী আজম, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং আসলাম নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। মেঘনার মৃত্যুর পর ফেসবুকে এ ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা সবাই আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ভালোবেসে গোলাম আজমের সঙ্গে মেঘনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ফুপাতো বোনের এক বান্ধবীর সঙ্গে ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে গোলাম আজম মেঘনাকে মারধর করেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।


হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অভিমানে সোমবার গলায় ফাঁস দেন মেঘনা। তবে আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের মুঠো ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বামী গোলাম আজম, শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ এবং শারিরিক নির্যাতনের কথাও তুলে ধরেন। গোলাম আজম মুঠোফোনে মেঘনার গলায় ফাঁস দেওয়ার খবর মেঘনার বাবার পরিবারকে জানান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মেঘনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর বাবা হারুন উর রশিদ। তিনি তার মেয়ের এমন মৃত্যুর ঘটনায় কান্নাজড়িত কন্ঠে মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও স্থানীয়ভাবে তদন্ত করার পর অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।