ফ্যামিলি কার্ডে চাকরির লড়াই, ৯৩ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ৭২৬
ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাস্তবায়নাধীন ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে লিখিত ও ডিজিটাল স্কিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয় এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলে।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে মোট ৬৪৯ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৭৭ জনসহ সর্বমোট ৭২৬ জন আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে সংরক্ষিতসহ ৮৫ জন এবং সুপারভাইজার পদে সংরক্ষিতসহ ৮ জন, মোট ৯৩ জনকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে।
পরীক্ষা পরিচালনায় তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য ৯টি এবং সুপারভাইজার পদের জন্য ১টি বোর্ড গঠন করা হয়। তথ্য সংগ্রহকারী পদের পরীক্ষা সমাজসেবা কার্যালয়, মৎস্য অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, কৃষি অফিস, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস, এলজিইডির দুটি কক্ষ, সমবায় অফিস, জাইকা কার্যালয় ও আইসিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সুপারভাইজার পদের পরীক্ষা উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রতিটি বোর্ডে গড়ে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার এবং সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীমের নেতৃত্বে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও আইসিটি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন দায়িত্ব পালন করেন।
তথ্য সংগ্রহকারি পদে অংশ নেওয়া বাকশিমইল ইউপির মোনায়েম আলী পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজের ফলাফলের জন্য শতভাগ আশাবাদি।
তথ্য সংগ্রহকারি পদে অংশ নেওয়া আরেক পরীক্ষার্থী মৌগাছি ইউপির নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, পরীক্ষার পরিবেশ প্রশ্নোত্তর ও স্কীল টেস্ট খুবই ভালো হয়েছে। পরিক্ষার ফল ভাল হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীম জানান, লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক ও ডিজিটাল স্কিল টেস্টের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া মেধা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও যোগ্য তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাবের সুযোগ নেই। যোগ্য প্রার্থীরাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন।”
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড বাংলাদেশ সরকারের একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় এনে প্রয়োজনভিত্তিক খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির লক্ষ্য হলো প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।