যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি ঘটছে: কাতার
কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতি অর্জন করছেন। এতে তেলের দাম কমলেও আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের মন্তব্যের পর ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফের জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে শিগগিরিই কোনো সমঝোতা হতে পারে, এমন আশার মধ্যে তেলের দর পতন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রণালিটি কার্যত বন্ধই আছে আর এর মধ্যে হরমুজ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আরেকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
কাতারের আমিরের দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক ফোন কলে ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনা ও দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দপ্তরটি জানিয়েছে, আলাপে আমির সংলাপের গুরুত্ব ও জুনের মাঝামাঝিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। এমওইউতে সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের বিধান ছিল।
ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে আর ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘শেষ সুযোগ’ পেয়েছে। অপরদিকে ইরানি কর্মকর্তার জোর দিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
ট্রাম্প তার বর্ণিত ইরানের ওপর ‘ব্যাপক হামলার’ একটি পরিকল্পনা থেকে শনিবার সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সোমবার ওই মন্তব্যগুলো করেন। এতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দেওয়ার পর তা বাতিল করে কূটনৈতিক যোগাযোগের দিকে ইঙ্গিত করার একটি ধারা ফের দেখা গেল; ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যা ঘুরেফিরেই দেখা যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়িকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে তাদের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে আর আলোচনায় নিরাপদ নৌ-চলাচলের পথ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকায়ি বলেছেন, যে প্রণালি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার লক্ষ্য হল ইরান ও ওমান, উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশাবাদী কণ্ঠে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
বুধবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে জ্বালানি দামে স্থিতিশীলতা আসবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রুবিও বলেছেন, “ওই আলোচনাগুলোতে অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তা খুব শিগরিই হবে বলে আমরা আশা করছি।”
আর বেসেন্ট জানিয়েছেন, হরমুজ ফের খোলা নিয়ে বুধবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ