শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ

সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ

মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সাথে পাঁচ মাসব্যাপী যুদ্ধে তাদের বিশ্বব্যাপী থাকা অত্যন্ত নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এ ঘটনা ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তথ্য সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।


এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রধানত সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, যা আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেমস (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলস (পিআরএসএম) নামে পরিচিত। দুটি সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই অস্ত্রগুলোর ‘কার্যত সবগুলোই’ ব্যবহার করেছে।

সামরিক বাহিনীর কাছে এটিএসিএমএস এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের কী পরিমাণ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তা আগে কখনো জানানো হয়নি।


এই দূরপাল্লার যুদ্ধাস্ত্রগুলো—যার প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি—সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। ইউক্রেনের যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত এটিএসিএমএস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। পিআরএসএম হলো একটি নতুন ও আরো উন্নত প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, যা এটিএসিএমএস-কে প্রতিস্থাপন করবে, কারণ এটিএসিএমএস-এর পাল্লা তুলনামূলকভাবে কম।


নির্ভুল ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের এই নাটকীয় ঘাটতির অর্থ হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের ওপর পুনরায় বড় আকারের হামলা শুরু করেন, তবে তাকে হয়তো আরো ঝুঁকিপূর্ণ, চালক-পরিচালিত বোমা হামলার ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি যুদ্ধাস্ত্রের কতগুলো মজুদ অবশিষ্ট আছে, তা বলতে সূত্রগুলো অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে ইরান যুদ্ধ শুরু করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই সংঘাত স্বল্পস্থায়ী হবে।


কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাশিয়া ও চীনসহ প্রতিপক্ষদের প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।


বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চতুর্থ একজন ব্যক্তি জানান, নির্ভুল অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় অস্ত্র সরবরাহ করতে সক্ষম। সেন্ট্রাল কমান্ড—যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর তত্ত্বাবধান করে—সারা বিশ্বে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরবরাহ থেকে পুনরায় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।


মজুদের তথ্য সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি যুদ্ধাস্ত্র’ এবং ‘প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি’ রয়েছে।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি