শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

যুদ্ধের মধ্যেও প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা ৯ হাজার কোটি ডলার

সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
যুদ্ধের মধ্যেও প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা ৯ হাজার কোটি ডলার

ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম প্রায় আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং কার্বন নিঃসরণজনিত জলবায়ু সংকট প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করায়, বিশ্বের আটটি বৃহত্তম তেল কোম্পানি মাত্র তিন মাসে ৯ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মুনাফা অর্জন করেছে।


যুদ্ধের এই অপ্রত্যাশিত মুনাফা সৌদি আরামকো এবং বিপি-র মতো তেল ও গ্যাসের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে ‘মানব দুর্দশার সুযোগ নিয়ে অর্থ উপার্জনের’ মাধ্যমে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের জন্য অর্থায়নের আহ্বানকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছে।


গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুন মাসের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তালিকাভুক্ত এই আটটি তেল উৎপাদনকারী সংস্থা প্রায় ৯ হজার ৩০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। এটি ছিল মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধের পর প্রথম পূর্ণ আর্থিক ত্রৈমাসিক। ওই সময় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল।


বাজারের ইতিহাসে জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো গত বছরের একই সময়ের প্রায় পাঁচ হাজর কোটি ডলার থেকে তাদের সম্মিলিত মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ করেছে। আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এই অতিমুনাফার মূল্য হিসেবে লাখ লাখ পরিবারকে বর্ধিত বিল এবং জলবায়ু বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।


তথ্য থেকে জানা যায়, আটটি তেল কোম্পানি—আরামকো, বিপি, শেল, ইকুইনর, টোটালএনার্জিস, এনি, শেভরন এবং এক্সনমোবিল বসন্তের ত্রৈমাসিকে প্রতি মিনিটে ৭ লাখ ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছে।


যখন তাদের বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলার বেড়ে ৩ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছিল, তখন তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে একের পর এক প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহের দিকে এগোচ্ছিল, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে আরও বেশি সম্ভাব্য ও তীব্র হয়ে উঠেছিল।


গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে প্রথমবারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম জীবাশ্ম জ্বালানি সংস্থাগুলোর কার্বন নিঃসরণকে প্রাণঘাতী গরম আবহাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১৪টি বৃহত্তম কোম্পানির যেকোনো একটির নিঃসরণই ৫০টিরও বেশি তাপপ্রবাহ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল, যা অন্যথায় কার্যত অসম্ভব হতো।


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি