বগুড়ায় বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন কারাগারে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পাঁচটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুরে মনিপুরি পাড়ার একটি বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহার।
এরপর বেলা ১২ দিকে গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরকে বগুড়ায় আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এরপর পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে। এসময় বিএনপি ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তানভীর এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সিলেটে এনসিপির একটি পথসভায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর।
পুলিশ জানায়, পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে তিনি তা মুছে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এর আগেই পোস্টটির স্ক্রিনশট বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি সরিয়ে নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি দলের একাধিক নেতা-কর্মীর নজরে এলে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে অর্থ কেলেঙ্কারী ও তদবীর বাণিজ্যের অভিযোগে এনসিপির পক্ষ থেকেও তানভীরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।