শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
রাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
রাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এদিন সকাল ১০টায় এক শোভাযাত্রা সিনেট ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।


শোভাযাত্রায় উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর এস এম কামরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অনুষদ অধিকর্তা, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালক ইত্যাদিসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ অংশ নেয়।


সকাল ১০:৩০ মিনিটে জনসংযোগ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন উপাচার্য। সেখানে উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 


বেলা ১০:৪৫ মিনিটে সিনেট ভবন চত্বরে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় বৃক্ষরোপণ করেন। একই সময়ে চারুকলা মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প। উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যবৃন্দ, চারুকলা অনুষদের অধিকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা এই আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।


বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারুণ্যের প্রত্যয়; গণতন্ত্রের অঙ্গীকার ও নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা)’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও ছাত্র-উপদেষ্টা সভাটি সঞ্চালনা করেন।


আলোচনা সভায় কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর মো. রেজাউল করিম-২ এবং তিন জন আহত জুলাই যোদ্ধা মো. ইমরান, মনিরাজ ও হাফিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক রক্তস্নাত ঘটনা জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এতে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে। বিজয়ের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদের উৎখাত হয়েছে। এর ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এজন্য আমাদের এই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে যেন স্বৈরাচার আর কখনো ফিরতে না পারে। এজন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমাজের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রের চর্চা বজায় রাখা। 


উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁক বদল হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এই গণঅভ্যুত্থানে ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন ও তার সুবিধাভোগী চক্র উৎখাত হয়। এর ফলে দেশে আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে জনগণের বিজয় হলেও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও ফিরে আসার হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থা রোধে সর্বক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আমাদের এই প্রত্যয়ই হতে হবে যে জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়। আমাদের মধ্যে বিভেদ, মতানৈক্য ও দূরত্ব ঘুচিয়ে সমাজে দায়িত্বশীল আচরণ করা একান্ত প্রয়োজন। গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ  জনগণ সে লক্ষ্যে একতাবদ্ধ আছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 


উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সময়ের পরিসরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ ছিল তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী; কিন্তু এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। রাজপথে এই আন্দোলনের দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটলেও এর অন্তর্নিহিত আকাক্সক্ষা ও প্রেরণা দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের মধ্যে লালিত হয়ে আসছিল। গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রত্যাশাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে পরিণত করে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে-এটাই হোক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অঙ্গীকার। 


দিবসের কর্মসূচিতে আরও আছে বাদ আছর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দো’য়া মাহফিল।  দিবসটি উপলক্ষ্যে আবাসিক হলসমূহে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।